কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

হোসেন তওফিক চৌধুরী
সুনামগঞ্জের এক ব্যতিক্রম ধর্মী সংগঠন “সোনালী সকাল”। সুস্বাস্থের লক্ষে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণের জন্য দলবেঁধে হাটার প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন রাঙ্গা প্রভাতে- কাক ডাকা ভোরে এরা হাটতে বেরুতেন। আর হাঁটার সাথে সাথে বিভিন্ন ধরণের গল্প গুজব- আড্ডা- রাজা উজির মারা চলত। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্য সীমিত। মাত্র ১৩জন। প্রধানত আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরা বিগত কয়েক বছর থেকে এইভাবে নিয়মিত হাটছেন। চিকিৎসকরা বলেন, নিয়মিত হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। অনেক রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এই “সোনালী সকালের” মধ্যমনি ছিলেন সদ্য প্রয়াত এডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু। প্রায় প্রতিদিন ভোরেই তাদের সাথে আমার দেখা হতো এবং কুশল বিনিময় করতাম। এদের দল বেধে হাঁটা দেখে আমি খুব খুশি হতাম। তারা শহরের হাছননগর ও ষোলোঘরের বিভিন্ন পথে হাঁটতেন। সোনালী সকালের মত হাঁটার প্রতিষ্ঠান আর কোথাও আছে কিনা জানি না। খসরু ছিল সোনালী সকালের এক সোনার মানুষ। এই সোনার মানুষটি ২৪ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে না ফেরার দেশে চলে গেছে। সে এখন অনন্তের যাত্রী। কোনো অসুখ বিসুখ নেই একজন তরতাজা প্রাণোঞ্চল ব্যক্তি চিরতরে হারিয়ে গেলেন। তিনি একজন কীর্তিমান মানুষ ছিলেন। তার ৬৮/৬৯ জীবনে অর্জন করেছেন অনেক। সে ছিলো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক গবেষক ও সাংবাদিক, লব্ধপ্রতিষ্ট আইনজীবী, সুনামগঞ্জের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে এক লড়াকু সৈনিক। খসরু সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ চর্চার আহ্বায়ক, শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাবেক সহসভাপতি, সাবেক পিপি., কৃষ্টিও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি মুক্তিযুদ্ধ কমান্ড কাউন্সিল ও সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এছাড়াও আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করেছেন। কর্মজীবনে রাজনৈতিক দল গণফোরামের সঙ্গে একাত্ব হন। দোয়ারাবাজার উপজেলায় “খসরু হেলাল” হাই স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতার টাকা অন্যন্যদের সাথে মিশে গড়ে তুলেন “গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ” নামে একটি দাতব্য সংগঠন।
এমনি ভাবে কর্মময় ছিল তাঁর জীবন। তিনি আজ নেই। কিন্তু তাঁর স্মৃতিÑ অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এ ধরণের একজন কর্মময় মানুষের স্মৃতি মানুষ ভুলে না। তাঁর স্মৃতি জাগরুক রয়েছে এবং থাকবে। তাঁর সুকর্মই তাকে স্মরণীয় করে তুলেছে। তাঁর মতো কীর্তিমান মানুষের মৃত্যু নেই। তারা স্বীয় কীর্তির জন্যই যুগযুগ ধরে মানুষের অন্তরে অনির্বান দীপ শিখার মতো বিরাজ করবে।
লেখক : আইনজীবী ও কলামিষ্ট