কোল্ড স্টোরেজ চান সুরমার উত্তরপাড়ের ভোটাররা

স্টাফ রিপোর্টার
৩য় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউপি নির্বাচন। শেষ মুহূর্তের প্রচার প্রচারণায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। গ্রামে-গ্রামে, হাট-বাজারে ঝুলছে তাদের ছবি যুক্ত পোস্টার। ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটাররাও বলছেন বুঝে শুনে এক জন সৎ, ন্যায় বিচারক, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন তাঁরা।
মঙ্গলবার ও বুধবার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান ভোটারদের সাথে উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আলাপকালে ভোটারগণ জানান, সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের তিন ইউনিয়নের অনেক দরিদ্র ও হত দরিদ্র মানুষ সরকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। উপযুক্ত ব্যক্তিরা বয়স্ক ভাতার কার্ড, বিধবা ভাতার কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড ও গর্ভকালীন সময়ের ভাতার কার্ড পাচ্ছেন না। ভিজিএফ, ভিজিডি’র চাউল বিতরণেও সঠিক লোককে নির্ধারণ করা হচ্ছে না। এছাড়া এলাকার রাস্তা-ঘাটের যথাযথ উন্নয়ন হয় নি। নেতিয়ে পড়েছে বিচার ব্যবস্থা ও সামাজিক সুশৃংখল নিয়ম বিধি। যিনি এসব সমস্যা সুচিন্তার মাধ্যমে সমাধান করবেন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা স্বচ্ছ হবে এবং নি:স্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন তাঁকেই ভোট প্রদান করবেন ভোটারগণ।
সুরমা ইউনিয়নের কৃষ্ণতলা থেকে মইনপুর কবরস্থানের পাশের পুরাতন মেইন সড়ক অন্যদের দখলে চলে যাচ্ছে। এই সড়ক দেশ স্বাধীনের আগে মঙ্গলকাটা আসা-যাওয়ার বাইপাস সড়ক হিসাবে ব্যবহার হতো। এই সড়কের মেরামত কাজের কোনো উদ্যোগ নেই। কৃষ্ণতলা এলাকায় ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণেরও উদ্যোগ নেই। অথচ ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালে ১৭৭১ নম্বর দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মাটির সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্ষায় মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হন চরমে।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের দলাই নদীর উভয়পাড় উঁচু করে পাকাকরণ না হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে নদীরপাড় ভেঙে প্রতিবছর মঙ্গলকাটা বাজারসহ আশপাশ এলাকা প্লাবিত হয়। মানুষ চলাচলে নানা সমস্যা হচ্ছে। এই ইউনিয়নের ২৩ গ্রামের শাহী ঈদগাহ’র যথাযথ উন্নয়ন নেই। অনুন্নত রাস্তা-ঘাটে নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন মানুষজন।
রঙ্গারচর ইউনিয়নের বনগাঁও থেকে বিরামপুর যাতায়াতে কাংলার হাওরের বেড়িবাঁধ সড়কের পাকাকরণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। এটি শহরে আসা-যাওয়ার বাইপাস সড়ক ও সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় ছমাদনগর-মোল্লাপাড়া-নৈগাং সড়কের পাকাকরণ না থাকায় চলাচলকারী মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সুরমা ইউনিয়নের ভোটার আব্দুল হামিদ বলেন, চেয়ারম্যান অফিস নেই। নির্বাচন আসলেই মিথ্যা প্রচারণা। পাশ করেই মানুষকে সরকারী সুবিধা দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়া একটা রীতি হয়েছে। এই প্রবণতা যে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেবে তাকে ভোট দেবো।
সুরমা ইউনিয়নের ভোটার জাহানারা বেগম বলেন, খেটে খাই তবুও না ভিক্ষা করি। কিন্তু কোনো সরকারী সুবিধাও পাচ্ছি না। জায়গা নেই, ঘর নেই। অন্যের বাড়ি থেকে জীবন চলে যাচ্ছে। আমাদের জীবনমানের উন্নয়নে ভাল প্রার্থীকে ভোট দেবো।
ভোটার যমুনা বিবি বলেন, যার কিছুই ছিল না, নির্বাচিত হয়ে সে হয় সম্পদশালী। এবারের নির্বাচনে ভাল মানুষকে ভোট দেবো।
প্রবীণ ভোটার সহিদ মিয়া বলেন, সারা জীবন চলে যাচ্ছে। কিন্তু দেখে যেতে পারলাম না আমাদের ইউনিয়ন অফিস নির্মাণ হয়েছে। যে ব্যক্তি চেয়ারম্যান হউক ইউনিয়ন অফিস নির্মাণ চাই। এটা যারা করবে বলে অঙ্গিকার দিবে তাকে ভোট দেবো।
রঙ্গারচর ইউনিয়নের ভোটার রহিম উদ্দিন বলেন, আমাদের ঘর নেই, জায়গা নেই, টাকা নেই। এই জন্য কিছুই পাইনি। নির্বাচন আসলে নানা আশ্বাস দেন প্রার্থীরা। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর নিমিষেই পাল্টে যান। এবার বুঝে শুনে ভোট দেবো।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ভোটার আজমল আলী বলেন, আমরা বঞ্চিত হয়ে আসছি সরকারী নানা সুবিধা থেকে। এবার ভোট দেবো খুবই চিন্তা করে।
ভোটার সুজাতা বেগম বলেন, কারে ভোট দেবো, এখনও ভাবছি। নিজের উন্নয়নের জন্য এবার চিন্তা করে ভোট দেবো।
ভোটার বুরহান উদ্দিন বলেন, সুরমার উত্তরপাড় সবজি উৎপাদন সমৃদ্ধ এলাকা। এই এলাকার সবজির ভাল দাম পেতে প্রয়োজন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ। একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন হলে সবজি সংরক্ষণ করা যেতো। এই কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে প্রয়োজন সুদক্ষ চেয়ারম্যান। আমাদের আশা-আকাংখা পূরণ করার উপযুক্ততা যার মধ্যে আছে, আমরা তাকেই ভোট দেবো।