ক্রিকেটে সুনামগঞ্জ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন/ এই সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক

সুনামগঞ্জের ক্রিড়াঙ্গন থেকে একটি ভালো খবর পাওয়া গেলো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত ইয়ং টাইগার্স অনুর্দ্ধ ১৮ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সুনামগঞ্জ জেলা দল গ্রুপ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। এই পর্যায়ে তারা কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলা দলকে হারিয়েছে। গ্রুপ পর্যায়ে সুনামগঞ্জের ছেলেরা অপরাজিত থাকার দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আগামীকাল সেমিফাইনালে সিলেট জেলা দলের মুখোমুখি হবে সুনামগঞ্জ। বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে চোখে পড়ার মতো সফলতা অর্জন করায় ক্রিকেটারদের আমরা অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন দলের কোচ ও সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। প্রায় নেই হয়ে যাওয়া সুনামগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে বহু দিন পর এমন সফলতা ঝিমিয়ে পড়া মাঠকে আবার কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দিতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস। একটি বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্যায়ে সেমিফাইনালে উঠা হয়তো তত বড় কীর্তি নয় কিন্তু আমরা এই অর্জনেও কম খুশি নই এ কারণে যে, এই সফলতা সামনের দিনগুলোতে আরও নতুন নতুন সফলতা বয়ে নিয়ে আসবে। ছেলেদের মনে এই বিশ্বাস জন্মাবে যে, আমরাও পারি। চলমান প্রতিযোগিতায় সুনামগঞ্জ জেলা দল সেমিফাইনালে জিতে ফাইনালে যেতে পারবে কিনা এবং পরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কিনা, অতদূর স্বপ্ন না দেখে আমরা তাদের চলমান সফলতাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চাই। আমাদের বিশ্বাস এই ছেলেরা সামনের দিনে আরও বড় বড় সাফল্য নিয়ে আসতে পারবে। আর ইয়ং টাইগার্স টুর্নামেন্টে যদি দলটি ফাইনালে পৌঁছায় এবং পরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে তাহলে সেটি হবে অনন্য এক অর্জন। হ্যাঁ, তারা পারবে; এই বিশ্বাসের জোরে আমরা তাদের সামনের দিনগুলো স্বর্ণালী হয়ে উঠুক এই কামনা করি।
খেলার যে খবর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে জানা যায়, গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে টসে জিতে কুমিল্লা জেলা দলকে প্রথমে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানায় তারা এবং দুর্ধর্ষ বোলিং আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ৩৮.৩ ওভারের মধ্যে ১২০ রানে গুটিয়ে দেয়। সুনামগঞ্জের আশরাফুল ৪ উইকেট লাভ করে। পরে জয়ের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে সহজেই লক্ষে পৌঁছে যায় সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জের ওপেনিং ব্যাটার প্লাবন ও মুবিন ২৫.৫ ওভারে ৮১ রানের জুটি করেন। মূলত এই জুটির উপর ভর করেই সুনামগঞ্জ সহজে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। বোলিংয়ে যে দাপট দেখিয়েছে সুনামগঞ্জ ব্যাটিংয়ে হয়তো সেরকম দেখাতে পারেনি। তরে পরিস্থিতি অনুসারে কম ভালো করেনি তারা। যেখানে জয়ের জন্য অল্প লক্ষ্যমাত্রা থাকে সেখানে ব্যাটাররা মারমার কাটকাট ব্যাটিং না করে ধীরে সুস্থিরে লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। সুনামগঞ্জের ব্যাটাররাও তাই করেছেন। সামনের ম্যাচগুলোতে আমরা তাদের সামর্থের আরও বড় প্রমাণ দেখতে চাই।
খেলাধুলা হলো জাতি গঠনের অন্যতম উপকরণ। তরুণ-যুবকদের পথভ্রষ্ট না হওয়ার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। ঠিক এই সময়ে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু করে প্রায় শেষ দিকে নিয়ে এসেছে। জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট লীগে জেলার তরুণদের প্রতিযোগিতা করার সামর্থের জায়গায় নিয়ে গেছে। এটি ক্রীড়াঙ্গনের গতিশীলতার লক্ষণ। আমাদের প্রত্যাশা হলোÑ এই গতি আরও অনেক বাড়িয়ে দেয়া। বছর ব্যাপী প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ চলতে থাকবে বিভিন্ন খেলার। এইসব প্রক্রিয়ায় জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব দেখানোর মতো খেলোয়ার বেরিয়ে আসবে। তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিকেল বেলা মাঠে কাটাবে, এরকম বাস্তবতা আমরা দেখতে চাই। তবেই না একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠার সঠিক পরিবেশ পেয়ে সুনাগরিক হয়ে বড় হবে।
সুনামগঞ্জের তরুণ ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক উন্নতির খবর পাওয়াই আমাদের প্রত্যাশা।