ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফিরেছে

পুলক রাজ
দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর বিদ্যালয়ে ফিরেছে শিক্ষাথীরা। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় এনে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে প্রায় আঠারো মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্য দিয়ে বহু কাঙ্খিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে। শিক্ষার্থীদের মাঝেও এসেছে উৎকন্ঠাহীন আনন্দ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ও কলেজের সামনে ফিরেছেন বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। ঝালমুড়ি, বাদাম, মটর, শীম ভাজা, আমড়া, ঠান্ডা শরবত, আইসক্রিম বিক্রেতাদের মুখে ফিরেছে হাসি। শহরের সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়, এইচ.এম.পি হাই স্কুল, বুলচান্দ হাই স্কুল, সতিশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শহর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সৃজন বিদ্যাপীঠ, ড্যাফডিল কিন্ডারগার্টেনসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বসতে দেখা গেছে।
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকে মাস্ক পড়ছেন না। দলবেধে একসঙ্গে অনেকে খাবার কেনায় ওখানে গিয়ে সংক্রমিত হওয়ার আশংকা করছেন অনেক অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, সেভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও মানতে হবে। না হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।
ঝালমুড়ি চানাচুর বিক্রেতা কুতুব উদ্দিন বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় আমার ঝালমুড়ি বিক্রি কমে গিয়েছিলো। এমনও সময় গেছে, পেশা বদল করে পরিবারের সদস্যদের খাবার যোগাতে হয়েছে। অনেক দিন পর মঙ্গলবার ভালো বিক্রি হয়েছে।
বাদাম বিক্রেতা ফারুক মিয়া বললেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়াতে আমার মতো হাজারো বাদাম বিক্রেতার সংসারে শান্তি ফিরেছে।
শরবত বিক্রেতা খালেদ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে শরবত ব্যবসা ভালোই চলছে। স্কুল-কলেজ খুলাতে বিক্রি আরো বেড়েছে।
আমড়া বিক্রেতা শামছুল আলম বলেন, স্কুল কলেজ খোলা থাকলেই আমাদের বিক্রি বেশি হয়। বন্ধের দিনগুলো অনেক কষ্টে কেটেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শারীরিক দূরত্ব রেখে আমড়া কিনছে।
আইসক্রীম বিক্রেতা ঝন্টু দাশ বলেন, প্রচুর গরম পড়েছে। এরমধ্যে প্রায় দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুল কলেজ খুলেছে, আমার বিক্রিও বেড়েছে।