খালে রাস্তা, শহরে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

সাইদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বৃষ্টির পানি হাওরে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দক্ষিণ ও পশ্চিম হাজিপাড়ার খালগুলো। শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুনামগঞ্জ সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুপাশে রয়েছে এই দুটি খাল। খালের দু’পাশে আবাসিক বাসা, দোকান হওয়ায় খালে ছোট ছোট বাঁধ দেয়ার কারণে বৃষ্টির পানি হাওরে যেতে স্থানে স্থানে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সামনের বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে শহরে জলাবদ্ধার আশঙ্কা করছেন পৌরবাসী।
সুনামগঞ্জ শহরের বৃষ্টির পানি এসব খাল দিয়ে জাওয়ার হাওরে নিস্কাশন হয়। শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই দুটি খালের মধ্যে পূর্ব হাজিপাড়ার খালের পাশে গড়ে ওঠা আবাসিক বাসা ও দোকানে যাতায়াতের জন্য ছোট ছোট রাস্তা করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নিচের দিকে নামার জন্য অনেক স্থানেই কালভার্ট দেয়া হয়েছে।
তবে দক্ষিণ হাজিপাড়ার চিত্র উল্টো দেখা গেছে। খালের মাঝে কমপক্ষে ১০ টি বাঁধ দিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এসব বাঁধের নিচের পানি প্রবাহের জন্য কোনো ব্রিজ বা কালভার্ট দেয়া হয় নি। এ কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধা তৈরি হয় এলাকায়।
খালে বাঁধ দিয়ে রাস্তা করেছেন সাদেকুর ইসলাম সুপ্রিয় নামের এক ব্যক্তি। সোমবার সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সাদেকুর’এর বাঁধ নিচু হওয়ায় তাকেও প্যান্ট হাটুতে তুলে মূল সড়কে আসতে দেখা গেছে। খালে এরকম বাঁধ দিয়ে রাস্তা করার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে মনে করেন তিনিও। তার দাবি নিজের বাঁধে কালভার্ট দিয়েছেন তিনি। অন্যদের বাঁধগুলোতে কালভার্ট দেওয়া হয়নি। এজন্য জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
এসব এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, চলাচলের জন্য কালভার্ট না দিয়েইে খালের মাঝে বাঁধ দিয়ে রাস্তা করেছেন অনেকে। এ কারণে খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি জাওয়ার হাওরে নামতে পারে না। সামনের বর্ষায় শহরেও জলাবদ্ধতা আশংকা করছেন তারা।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন বললেন, এই এলাকায় অনেকে নতুন বাসা-বাড়ি করেছেন। তারা খাল দখল করে রাস্তা করেছেন। অনেকে কালভার্ট বা পাইপ দিয়েছেন। অনেকে কিছুই দেন নাই। খাল দখল মুক্ত করার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।