খেতার শাহ’র উরুস শনিবার বসছে দোকানপাঠ, প্রস্তুতি সম্পন্ন

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শাহরিয়ার
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী খেতা শাহ’র বার্ষিক উরুস ১৮ অগ্রহায়ণ শনিবার। উরুসকে উপলক্ষ করে বীরগাঁওর দক্ষিণের মাঠে মঙ্গলবার থেকেই আসতে শুরু করেছেন দোকানিরা। নিজেদের পছন্দসই জায়গায় দোকান তৈরির উপাদান নামিয়ে রেখেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভাসমান ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, বাৎসরিক এ আয়োজনকে সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়েও সহযোগিতা কামনা করেছে আয়োজক কমিটি।
বুধবার বিকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বীরগাঁও গ্রামের দক্ষিণের মাঠে অর্ধশতাধিক ভাসমান ব্যবসায়ী তাঁবু করেছেন। তাদের পছন্দ সই জায়গায় আপাতত প্রস্তুতি সাড়ছেন তারা। বেশ কয়েকটি চা-চটপটির দোকান ইতোমধ্যে বেচা-বিক্রি শুরু করেছেন। অনেক দোকানিরা আসছেন। ট্রাক থেকে দোকান তৈরির তৈজসপত্র নামাচ্ছেন। উরুস আয়োজকরা ঘুরে ঘুরে পরখ করছেন। নেশা বা জুয়ার মতো কোনো দোকানকে মেলায় অনুমোতি দিচ্ছেন না তারা। একপাশে ইলেক্ট্রিশিয়ান লাইনিং এর কাজ করে যাচ্ছেন। জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে মেলার প্রতিটি দোকানে। একপক্ষ মাঠের অদূরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাড়ি পার্কিং করার জন্য। সকলেই উৎসব মুখর আমেজে আছেন। এদিকে, বীরগাঁও দক্ষিণহাটিতে হযরত খেতা শাহ (র.) ও বলন শাহ’র মাজারদ্বয়কে সাজানো হয়েছে আকর্ষনীয় করে। লাইটিং, ফুলের মালায় সজ্জিত করা হয়েছে আশপাশের সকল এলাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানা যায়, ৫৮ বছর ধরে খেতা শাহ’র উরুস বড় করে আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে শতাধিক বছর ধরে মুরব্বিরা অনানুষ্ঠানিকভাবে খেতা শাহ’র মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছেন। মেলায় অনেক দূর-দূরান্ত থেকে দোকানদাররা আসেন। অনেক দোকান বসে। গানের আসর বসে প্রায় ৮টি। এছাড়া ছোট ছোট অগনিত আসর হয়। পাগলা থেকে ২টি, সিলেটের শাহ জালাল (র.) এর মাজার, কাজীটুলার আসরসহ মোট ৪টি আসর, সুনামগঞ্জের সিংচাপইর থেকে ১টি ও বীরগাঁও গ্রাম থেকে ১টিসহ মোট ৮ থেকে ৯টি গানের আসর বসবে। বগুড়া, সিলেটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন অনেক দোকানীরা।
মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল খয়ের ও সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক নূর বলেন, আমাদের আয়োজন প্রায় শেষ। এবছর দু’টি গরু আনা হয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলার ব্যপারে খুব সতর্ক থাকবো। কোনোভাবেই বেআইনী কিছু মেনে নেবো না। পুলিশ প্রশাসনসহ সব সেক্টরে অবগত করেছি। তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। জুয়া, নেশা তৈরি করে এমন কোনো দোকান বা বোর্ডের অনুমোদন আমরা দিচ্ছি না। শিশুদের বিনোদনের জন্য নৌকা, দোলনা ইত্যাদি থাকবে।
বগুড়ার কাহালু থেকে আগত শিশু খেলনার দোকানদার মো. বিপ্লব ফকির ও সিলেটের সুবিদবাজার এলাকার চা-চটপটির দোকানদার গুলজার আহমদ মূল মেলার ৩দিন আগে মেলা মাঠে এসে পৌঁছেছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা মেলায় মেলায় যাচ্ছি। এর আগেও খেতা শাহ’র উরুসে আমরা এসেছি। এখানে পরিবেশ পরিস্থিতি খুব ভালো হওয়ায় এ বছর আবারো এসেছি। আগে চলে এসেছি কারণ পরবর্তীতে দোকানের জন্য জায়গা পাওয়া যায় না।
বীরগাঁও গ্রামের ওয়াহিদ মিয়া বলেন, বীরগাঁও’র খেতা শাহ’র উরুস মানে আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের উপলক্ষ। এসময় ঈদের খুশির মতো খুশি বিরাজ করে গ্রামের সবার ঘরে ঘরে। আত্মীয়-স্বজনরা আসেন। খুব ভালো লাগে।