গণটিকায় অভূতপূর্ব সাড়া

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে গণটিকায় অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। কেন্দ্রে স্বাস্থ্য কর্মীরা ৬০০ টিকা দেবার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বেলা একটা বাজার আগেই টিকা শেষ হয়ে যায়। কোন কোন কেন্দ্রে টিকা নেবার জন্য ২-৩ হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন। স্বাস্থ্যকর্মীসহ দায়িত্বশীলরা পরবর্তী তারিখে টিকা দেবার আশ^াস দিয়ে বিদায় করেছেন টিকা গ্রহণে আগ্রহীদের।
সুনামগঞ্জ শহরতলির সুরমা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর কেন্দ্রে দুপুর একটায় পাঁচ থেকে ছয়’শ মানুষের ভিড় ছিল। এরা টিকা না পাওয়ায় পরবর্তী তারিখ জানার চেষ্টা করছিলেন। দায়িত্বশীলরা পরের তারিখে তাদেরকে গুরুত্ব দেবার আশ^াস দিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করছিলেন।
ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা ষাট বছর বয়সী আব্দুল হক টিকা নিয়ে ভীষণ খুশী। বললেন, কেউ কেউ টিকা না নেবার জন্যও বলেছিল, টিকা নিলে শরীরের ক্ষতি হবে এমন ভয়ও দেখিয়েছে, আমি টিকা নিলাম, টেরই পেলাম না। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে টিকার কোন বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করলেন গ্রামের বয়োজ্যেষ্ট এই ব্যক্তি।
ইব্রাহিমপুরের বাসনা ম-ল (৫৭) বললেন, ‘আরও আগেই টিকা নিতাম চাইছলাম, কোনানো গিয়া কারে দিয়া দরখাস্ত (রজিস্টেশন করা) দিতাম, ইটা বুঝি না দেইক্কা দিসি না, আজকে ঘরের কান্দাত টিকা দিসইন তারা, সকালেই আইয়া টিকা লইলিছি।’
জগন্নাথপুরের শ্যামলতা বর্মণ (৪০) বললেন,‘ইনজেকসন দিলেও এর থাকি বেশি দুখ লাগে, টিকা দেওয়ার সময় টেরঔ পাইছি না, কামখা কিছু মাইনসে ডর দেখায়।’
অক্ষয়নগরের আমিনুর রহমান (৫৭) বললেন, ‘গাঁওয়ের মানুষরে গিয়া কইমু না ডরাইয়া স্কুলে আইয়া টিকা নিতা।’
টিকা প্রদানকালে এই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বললেন, স্বত:স্পুর্ত সাড়া দেখেছি, ৬০০ টিকা একটার আগেই দেওয়া শেষ। আরও অন্তত ৬০০ টিকা নিতে আগ্রহী মানুষ ছিলেন কেন্দ্রে, আমরা পরবর্তী তারিখে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে বুঝিয়ে বিদায় করেছি। আমরা বলেছি টিকা প্রদান চলতেই থাকবে।
কেবল সুনামগঞ্জ সদরের ইব্রাহিমপুর কেন্দ্র নয়। জেলাজুড়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ টিকা গ্রহণের জন্য ভিড় করেছিলেন।


দুপুর ১২ টায় খবর পাওয়া যায় জেলার নতুন উপজেলা ঘোষণা দেওয়া মধ্যনগরের মধ্যনগর শিশু ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ টিকা গ্রহণের জন্য ভিড় করেছিলেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বললেন, টিকা গ্রহণকারীদের ভিড় দেখে সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি আমরা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা আরও ৫০০ টিকা নিয়ে নিজেই কেন্দ্রে আসেন। শেষ পর্যন্ত ১১শ’ টিকা দেওয়া হয়েছে এই কেন্দ্রে।
এর আগে সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জ শহরের বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাফিজ আতাউর রহমান লস্করকে প্রথম গণটিকা দিয়ে জেলায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে এবং সুনামগঞ্জের ৮৮ ইউনিয়নে ৯৭ টি কেন্দ্রে ৫৪ হাজার ৬০০ জনকে টিকা দেবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত টিকা দেবার সময় ছিল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে ৩ টা) কি পরিমান টিকা দেওয়া হয়েছে এই তথ্য আসে নি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে।