গাইবান্ধায় রেকর্ড, ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা

সু.খবর ডেস্ক
দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে গাইবান্ধা—৫ উপ—নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রেকর্ড করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে সংসদীয় কোনো আসনের নির্বাচনে অনিয়মের কারণে এতো কেন্দ্র বন্ধ করতে হয়নি। এছাড়া ভোট চলাকালে ঘটেনি সম্পূর্ণ নির্বাচন বন্ধের ঘটনাও।
নির্বাচনে ১৪৫টি ভোটকেন্দ্রেই বসানো হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। আর সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল নির্বাচন কমিশন থেকে। এতে সকাল থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্যরা মনিটরে দেখছিলেন ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষের অনুপ্রবেশকারীরা ভোট দিয়ে দিচ্ছেন। এরপর একে একে ৫১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১ ধারা অনুযায়ী, পরবর্তীতে পুরো নির্বাচনের ভোটগ্রহণই বন্ধ করা হয় বলে জানান সিইসি।
বিষয়টি নিয়ে ইসির সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, এ ধরণের ঘটনা আগে ঘটেনি। একদিকে এটি যেমন নজিরবিহীন, অন্যদিকে এটি রেকর্ডও।
চতুর্থ থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পর্যন্ত কর্মরত কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের একটি আসনের ৪০টির মতো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা যায়নি। তবে সে সময় পুরো ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়নি। এতে বিএনপি নেতা মো. আলী জয়ী হয়েছিলেন। এদিক থেকে এবারের মতো এতো সংখ্যক কেন্দ্র কখনো বন্ধ ঘোষণা করতে হয়নি। এছাড়া ভোট চলাকালে পুরো সংসদীয় আসনের নির্বাচন বন্ধ করার নজির নেই।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, নজিরবিহীন কাজ যদি প্রার্থীরা ঘটায় তবে ইসিরও তো নিজরবিহীন ঘটনাই ঘটাবে। আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনার তার সঠিক দায়িত্বই পালন করেছে। এতে কমিশনের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। তবে যারা বিরোধীতা করার তারা এরপরও বলবে ইসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, তাই পুরো নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এটা প্রকৃতপক্ষেই ভালো কাজ হয়েছে।
আরপিও—এর ৯১ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা নির্বাচন কমিশন করতে পারে। সে অনুযায়ীই করা হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন চাইলে পুরো নির্বাচনের তফসিল পুনরায় দিতে পারে। আর কোনো প্রার্থী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার প্রার্থিতা বাতিল করে দিতে পারে। এক্ষেত্রে পারশিয়াল নির্বাচনও দিতে পারে। এটা নিশ্চয় তদন্ত সাপেক্ষে করবে নির্বাচন কমিশন।
৯১ ধারায় বলা হয়েছে— নির্বাচন কমিশন (ক) যদি এ মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভীতি—প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করিতে সক্ষম হবেন না, তাহলে এটা যে কোনো ভোট কেন্দ্র বা ক্ষেত্রমত, সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে;
(খ) এ আদেশ বা বিধিমালার অধীন কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক কোনো ব্যালট পেপার নাকচ বা গ্রহণ সংক্রান্ত প্রদত্ত কোনো আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারবে; এবং
(গ) এ আদেশ ও বিধিমালার বিধান অনুযায়ী ভোট কেন্দ্রের যে কোনো নির্বাচন যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে পরিচালনা নিশ্চিতকরণের জন্য উহার মতে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি জারি করতে, ক্ষমতা প্রয়োগ করতে এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য আদেশ দিতে পারবে।
এছাড়া এ ধরায় উপ—ধারাগুলোয় বলা হয়েছে— নির্বাচন কমিশন অনিয়মে জড়িতদের প্রার্থিতা বাতিল করতে বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে। কিংবা ফের তফসিল দিয়ে একেবারে শুরু থেকে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
গাইবান্ধা—৫ আসনটি ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপ—নির্বাচনে সাঘাটা উপজেলায় ৮৮টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৭টিসহ মোট ১৪৫টি কেন্দ্রে ৯৫২টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছিল।
নির্বাচনী এলাকায় সাঘাটা উপজেলায় ১০টি ও ফুলছড়ি উপজেলায় সাতটিসহ মোট ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে মিলে ভোটার রয়েছেন তিন লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৩ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭০ হাজার ১৬০।
অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া টানা নয় মাস ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে গত ২২ জুলাই দিনগত রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ কারণে তার আসনটি শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে উপ—নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সিইসি বলেন, পরবর্তীতে আইন ও বিধিমালা দেখে তারা নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম