গৃহিণীর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে আলোচনা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহরের হাসনগরে এক গৃহিণীর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে মহল্লাজুড়ে আলোচনা চলছে। এক সপ্তাহ আগে মধ্যবয়সী এই নারীর মৃত্যু ঘটলেও ৩ সন্তানের এই জননীর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নারী সংগঠনগুলো। গত ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে এই হতভাগা নারীর মৃত্যু হয়। গৃহিণীর নাম ঝর্ণা চোধুরী। তিনি শহরের হোসেন বখত চত্বরের পাশের হাসননগর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী বিভু চৌধুরী। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভায় অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় ঝর্ণা চৌধুরী গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরান। স্বামী বিভু চৌধুরী তখন বাসার গেইট লাগাতে বাইরে এসেছিলেন। তার ৩ মেয়ে পাশের রুমে ছিলো। গেইট লক করে ফিরতে ফিরতেই তিনি গায়ে আগুন ধরান!
ঝর্ণা চৌধুরী’র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানতে চাওয়া হয়েছিল, হতদরিদ্র এই পরিবারে এতো কেরোসিন কোথা থেকে এলো?
বিভু চৌধুরী জানালেন, তিনিই কেরোসিন এনে রেখেছেন, সব সময় হাতে টাকা থাকে না, এজন্য একসঙ্গে কেরোসিন এনে রেখেছিলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে হারিকেন দিয়ে মেয়েদের পড়াশুনার জন্য।
বিভু চৌধুরীর মহল্লার বাসিন্দা এক ব্যক্তি জানান, ঝর্ণা চৌধুরীর লাশ বারান্দায় পাওয়া গেছে। সেটি অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। আবার একজন মহিলা রাত ৯ টায় এভাবে মারা গেলেন, কেরোসিনে পুড়ার সময় চিৎকারও আশপাশের কেউ শুনলো না, এটি কীভাবে হয়?
নিহত ঝর্ণা চৌধুরীর ৩ মেয়ে। তারা ৩ বোনই বলছে, শরীরে আগুন লাগানোর আগে মা বাবা তাদের শোবার রুমে একসঙ্গে ছিলেন। বাবা বিভু চৌধুরী রুম থেকে বের হয়ে বাইরে গেইট লাগাতে যাওয়ার পরেই মা ঝর্ণা চৌধুরীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগান। এসময় চিৎকার শুনে বাবা সহ তারা ৪ জন ছুটে গেলে দরজা লক করা দেখতে পান। দরজা ভেঙে মা ঝর্ণা চৌধুরীকে উদ্ধার করেন তারা। পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঝর্ণার বড় বোন পান্না চক্রবর্তী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, তিনি জানালেন, তার বোন ঝর্ণার সংসারে সব সময় অশান্তি লেগেই থাকতো। অভাব অনটনের সংসার। এজন্য প্রায়ই বাজার করে পাঠাতেন তারা। তবু স্বামী বিভু চৌধুরী ঝর্ণাকে মানসিক অত্যাচার করতেন।
পান্না চক্রবর্তী বললেন, জায়গা সম্পতি নিয়ে প্রায়ই জামেলা হতো স্বামী স্ত্রী’র মধ্যে। মাঝে মাঝে মেয়েদের বাতি জ¦ালাতেও বাধা দিতেন বিভু। বলতেন বিদ্যুৎ বিল হয় বেশি। মেয়েদের রাস্তায় বের করে দেবার কথাও বলতেন। তিনি সব সময় পরিবারের প্রতি অমনোযোগি ছিলেন।
তিনি বলেন, আমাদের দুশ্চিন্তা এখন তিনটি মেয়েকে নিয়ে। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য বাসার জায়গা তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলেছি আমরা।
জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য্য বললেন, ঝর্ণা চৌধুরী জীবিত থাকার সময় মানসিক সমস্যা শোনা যায় নি। এখন বলা হচ্ছে মানসিক সমস্যা ছিলো তার। আমাদের এই সমাজে কোনো কারণে নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটলে পরিবার তাকে মানসিক রোগী বলে চালিয়ে দেয়। আর প্রেমের ঘটনায় যদি মারা যায়, তখন তাকে চরিত্রহীন বলা হয়। মেয়েরা নিজের ঘরেই নিরাপদ নয়। অনিরাপদ জীবনযাপন করে। ঝর্ণা চৌধুরী কেনো মরতে হলো, এর জবার তার পরিবারকেই দিতে হবে। তিনি এই মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ঝর্ণা চৌধুরী’র স্বামী বিভু চৌধুরী বললেন, তার স্ত্রী’র সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিলো, বারান্দায় কেন কেরোসিন ঢেলেছিলেন স্ত্রী, সেটি তিনি বলতে পারবেন না জানিয়ে বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসার বাইরে ছিলেন। কোরোসিন কিনে আনার কথা স্বীকার করেন তিনি।