গ্রেপ্তারকৃত হেলপার রশিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাইয়ে যাত্রীবাহী বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত বাসের হেলপার রশিদ আহমদ (২২) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রশিদ আহমদকে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাগীব নূর’এর আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী  দেয়  রশিদ আহমদ। এরপর তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আশেক সুজা মামুন  জানান, রশিদ আহমদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রশিদ আহমদ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের কামরাঙ্গিরচর গ্রামের হাবিব আহমদের ছেলে।
২৭ ডিসেম্বর রোববার গভীর রাতে সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বাস মালিকের
সহায়তায় জেলার ছাতক উপজেলার বুরাইরগাঁও গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে রশিদ আহমদকে আটক করে। তবে বাসের চালক শহীদ মিয়া এখনও পলাতক রয়েছে। শহীদ মিয়া সিলেটের জালালবাদ থানার মোগলগাঁও ইউনিয়নের মোল্লারগাঁও গ্রামের তৌফিক মিয়ার ছেলে।
প্রসঙ্গত, ২৬ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে সিলেটের লামাকাজী থেকে দিরাইয়ে যাচ্ছিলেন ওই কলেজ ছাত্রী। দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে এসে যাত্রীবাহী ওই বাসে একা হয়ে যান ওই ছাত্রী। অন্য যাত্রীরা নেমে যায়। এসময় চালক ও হেলপার কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সম্ভ্রম বাঁচাতে ওই ছাত্রী চলন্ত বাস থেকেই লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে সড়কের পাশ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দিরাই হাসপাতালে নেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে নির্যাতিতার স্বজনসহ স্থানীয়রা রাতে দিরাই থানার সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ বাসটি জব্দ করে।
এঘটনায় শনিবার রাতেই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাসের চালক শহীদ মিয়া ও হেলপার রশিদ আহমদকে আসামী করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরের মজলিশপুর গ্রামে। সে দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ওই ছাত্রী বর্তমানে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।