চরম ভোগান্তিতে নাগরিকরা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সার্ভার সমস্য থাকায় গত তিন দিন ধরে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগিরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পৌরসভার জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জন্ম নিবন্ধনের সার্ভারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এজন্য কাজ করা যাচ্ছে না। সার্ভারের সমস্যা সমাধান হলে আসবেন। তবে কবে এ জটিলতা নিরসন হবে তা জানানো হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন লোকজন পৌরসভার আসা যাওয়া পালায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে অনেকেই জন্ম তারিখ ও নাম সংশোধন এবং শিক্ষার্থীদের বাংলা থেকে ইংলিশ জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছেন।
ভুক্তভোগি জগন্নাথপুর পৌরসভার বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, আমার দুই মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করার জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ করার পৌরসভা গিয়েছিলাম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন সার্ভারের সমস্য হচ্ছে এজন্য জন্ম নিবন্ধন হবে না। পরে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে। গত তিন, চার দিন ধরে পৌরসভায় গিয়েও আমার কাজ হয়নি। ফলে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।
পৌরশহরে ইকড়ছই এলাকার বাসিন্দা শামিনুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পৌরসভায় ঘুরছি আমার দুই ভাতিজির জন্ম নিবন্ধনের সনদপত্রে নাম সংশোধনের জন্য কিন্তু সেবা পাচ্ছি না। সার্ভারের ত্রুটির অজুহাতে সুফল মিলছে না। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা।
জানা যায়, ২০০৪ সালে জন্ম নিবন্ধন আইন করা হয়। কার্যক্রম করা হয় ২০০৬ সালে। জাতীয় পরিচয় পত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট ইস্যু, জমি রেজিস্ট্রেশন, বিবাহ নিবন্ধনসহ ডাইভিং লাইসেন্স নেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক।
জগন্নাথপুর পৌরসভার সচিব হেলাল উদ্দিন জানান, জন্ম নিবন্ধনের সার্ভারে সমস্য দেখা দেয়ায় জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রমে কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে। এ সময় গত দুইদিন ধরে চলছে বলে তিনি জানান।
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন জানান, জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তবে জন্ম সংশোধন আবেদনের জন্য আমরা জগন্নাথপুরের ইউএনও কার্যালয়ে পাঠালে তাঁরা কাজ করছেন না। আমাদের কোন বকেয়া নেই। এছাড়া এখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম আমাদের সংশোধন আবেদন এখন থেকে ডিজেএলজিডি প্রতিষ্ঠান দেখবে।
জগন্নাথপুরের ইউএনও সাজেদুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভার কাছে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯২৬ টাকা বয়েক বিল থাকায় জন্ম নিবন্ধন কেন্দ্রীয় সার্ভার তাদের সংশোধনী সার্ভার বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য পৌরসভার পাঠানো সংশোধনী আবেদনে কাজ করা যাচ্ছে না।