চলাচলে স্বস্তি ফিরেছ, মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনতা

পুলক রাজ
২২ দিন পর জেলায় বৃহস্পতিবার জেলা ও শহরে আজ গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। গণপরিবহন চলাচল শুরু হওয়ায় সুনামগঞ্জের সড়ক তার চিরচেনা রূপে ফিরেছে। সহজে চলাচল করতে পাড়ায় সবার মধ্যে স্বস্তিও ফিরে এসেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে গণপরিবহন চালানোর কথা থাকলেও অনেক জায়গাতেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত ছিল। অনেককে মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারে অসচেতনতা দেখা গেছে। অথচ নির্দেশনা রয়েছে- মাস্ক ছাড়া কোনো যাত্রী গাড়িতে উঠতে পারবে না। কিন্তু প্রথম দিনেই অনেক যাত্রী ও চালকের মুখে মাস্ক ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিনে নতুন বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, লেগুনা স্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডে এই চিত্র দেখা গেছে।
সিলেট থেকে আসা যাত্রী মঞ্জু মিয়া বলেন, সিলেট বাসস্ট্যান্ড থেকে খুব সুন্দরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী নিয়েছে। একজনকে দুইটা সিট দেওয়া হয়েছে। ভাড়া ডাবলও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গাড়ি ছাড়ার পর সামাজিক দূরত্ব আর মানা হয় নাই। দুই সিটে একজন আর থাকে নাই। দুই সিটে দুইজনই রাখা হয়েছে।
যাত্রী নূর হোসেন বলেন, গাড়ি ছাড়ার পর গণপরিবহনে শারীরিক দূরত্ব থাকে না। পুলিশ দেখলে ভাব ধরে ড্রাইভার আর কন্ট্রেকটার। স্প্রের কোন ব্যবস্থা নাই। ড্রাইভার আর কন্ট্রেকটারের মুখে মাস্ক থাকে না। তারা আর কেমনে সচেতন থাকবে। আর যাত্রীরা নিয়মের কথা বললে খুব খারাপ ব্যবহার করে।
বাস ড্রাইভার কলিম মিয়া বলেন, আজ থেকে বাস চালু হয়েছে। নিয়ম মেনে আমরা গাড়ি চালাচ্ছি। গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী তুলছি না। দুইটা সিটে একজন করে যাত্রি বসাচ্ছি। লকডাউনের আগে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট ৮০ টাকা নিতাম। সরকার থেকে ঘোষণা এসেছে একজন ডাবল সিট ব্যবহার করবে তাই আমরা নিয়ম মেনে ১৬০ টাকা নিচ্ছি। সামাজিক দূরত্ব রাখার চেষ্টা করছি।
সিএনজি যাত্রী ছমির আহমেদ বলেন, একটা সিএনজিতে ৩ জনের বেশী তোলা নিষেধ, কিন্তু ড্রাইভাররা ৫ জন তুলছে। ভাড়া নিচ্ছে ডাবল তারা কোন নিয়ম মানছে না।
সিএনজি ড্রাইভার খায়রুল মিয়া বলেন, আমরা কি করবো রুজি না করলে সংসরা কেমনে চালাবো। মানুষেই সামাজিক দূরত্ব মানছে না তো আমরা কি করবো।
লেগুনা যাত্রী সঞ্জয় দাশ বলেন, ডাবল ভাড়া নিচ্ছে, যাত্রী তুলছে গাদাগাদি করে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রইলো এসব পরিবহনের দিকে নজর রাখার জন্য।
অটোর রিকশা যাত্রী নয়ন আহমদ বলেন, শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। ড্রাইভাররাও মাস্ক পরে না।
অটো রিকশা ড্রাইভার মো. পলাশ মিয়া বলেন, আমরা কি করবো অনেক যাত্রীরা নিয়ম মানে না।
এর আগে ১৪ মার্চ থেকে গণপরিবহন, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে সবাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। পরে এই লকডাউন কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ফের ৬ মে থেকে গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।