চাকরি ভাইয়ের দায়িত্ব বোনের

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্থ হয়ে কারা ভোগ করছে বড় ভাই। ভাইয়ের এমন দুর্দিনে বসে থাকেনি ছোট বোন। কমিউনিটি ক্লিনিকে ভাইয়ের দায়িত্ব পালন শুরু করে দিয়েছেন এক ছোট বোন। আগত রোগীদের দিচ্ছেন বিভিন্ন ঔষধপত্র। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে এমন দায়িত্ব অন্য কেউ পালনের সুযোগ নেই। তবুও গত কয়েকদিন ধরে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের রংপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মহিবুর রহমানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তার ছোট বোন মোছা. শিউলী। মহিবুর রহমান একই ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
মহিবুর রহমান নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসে গত ৪ মার্চ সেচ সংযোগের জন্য একটি আবেদন করে। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন হতে মহিবুরে নামে লাইসেন্সটি সঠিক নয় বলে জানালে মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান থেকে বিরত থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে মহিবুর ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিল স্বাক্ষর জাল করে লাইসেন্সের মেয়াদ বর্ধিত করে। ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আদালতকে লিখিতভাবে জানান যে মহিবুরের লাইসেন্সটি সঠিক নয় বিধায় তার লাইসেন্স স্থগিত করা হয় এবং লাইসেন্সটি নবায়ন করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৮ আগস্ট নেত্রকোনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ মহিবুরকে দোষী সাব্যস্থ করে কারাদ- দেন। ওইদিন থেকেই মহিবুর কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে ক্লিনিকও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে মহিবুরের ছোট বোন শিউলী ক্লিনিকের দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই ক্লিনিকে সরেজিমন দেখা যায়, শিউলী নুরমিন আক্তার নামের আরেকজনকে সাথে নিয়ে রোগীদের মাঝে ঔষধ বিতরণ করছেন। এ সময় কোনো স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তবে সোয়া বারটার দিকে স্বাস্থ্য সহকারী সৈয়দ এমদাদুল হককে ক্লিনিকে আসতে দেখা যায়।
শিউলী জানান, তার ভাই কোথায় আছে তিনি তা জানেন না। তিনি এমএইচবি হিসেবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় ক্লিনিকের দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ক্লিনিকের কমিউনিটি গ্রুপ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য টিটু মিয়া বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে ক্লিনিক বন্ধ। রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। সেচের মামলায় মহিবুর কারাগারে আছে।’
একই কমিটির সদস্য বকুল মিয়া বলেন, ‘আমরা ভাটি এলাকার মানুষ। অসুধ আনতে গেলে হাসপাতালে যেতে হয়। ক্লিনিক খোলা থাকলে আমরা সহজেই অসুধ পাই। মহিবুরের পরিবর্তে তার বোন অসুধ দিচ্ছে। কিন্তু ঠিকমতো অসুধ দিতে না পারলে রোগীর সমস্যা হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোশতানসির বিল্লাহ বলেন, ‘মহিবুর গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ৫ দিনের জন্য ছুটি নিয়েছিল। কিন্তু পরে আর কর্মস্থলে যোগদান করেনি। ফলে তাকে দুইবার শোকজ করেছি। কিন্তু কোনো জবাব পাইনি। তাই তার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। এমএইচবি অসুধ দিতে পারেনা। স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীর মাধ্যমে তিন দিন করে ক্লিনিক খোলা রাখা হচ্ছে। যদি সে (মহিবুর) কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’