চাচা-ভাতিজাসহ ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
নির্বাচন মানে উৎসবমুখর বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীর নাম ও মার্কা ধরে উচ্চস্বরে মাইক বাজানো। সাধারণ মানুষের বাক-বিত-ায় সরগরম হাট-বাজার ও রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকান। পক্ষে-বিপক্ষে জোর কথোপকথন কিংবা পথে পথে প্রার্থীর মার্কা সম্বলিত পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া উজ্জীবিত পরিবেশ। কিন্তু জামালগঞ্জের আগামী ২০ অক্টোবরের উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে এমন উত্তাপ নেই।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল আল আজাদ, বিএনপির দলীয় প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক আফিন্দী। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ স্থানীয় সরকারি বিষয়ক সম্পাদক মাসুম মাহমুদ তালুকদার ও তাঁর চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম তালুকদার মোহন।
নির্বাচনে প্রার্থী ও সমর্থকেরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যস্ত সময় পার করলেও সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী (ধানের শীষ) বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি শতভাগ আশাবাদী। দলের প্রতীক বড় কথা নয়, ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই নির্বাচন হবে জামালগঞ্জে।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইকবাল আল আজাদ (নৌকা) বলেন, ‘ভোট চাইতে প্রতিদিন গ্রামাঞ্চলে যাচ্ছি এবং প্রচুর সাড়াও পাচ্ছি। আমার বাবা সারাজীবন মানুষের পাশে ছিলেন। সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি বার বার নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। বর্ষাকাল হওয়ায় সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনাটা টের পাওয়া যাচ্ছে না। আশা করি জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও তরান্বিত করবে।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়জুল আলম মোহনও ছিলেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার বাবা প্রয়াত আবুল মনুসর লাল মিয়া ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি এবার ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
ফয়জুল আলম মোহনের ভাতিজা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক মাসুম মাহমুদ তালুকদার আনারস প্রতীকে লড়ছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত সামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়াও ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। মাসুমের আপন ছোট ভাই সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার সাজিদও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন,‘আমি আমার গ্রাম-এলাকাবাসীসহ সকল মুরব্বিদের মতামত ও অনুমিত নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। চাচাকে অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনেন নি। চাচা নির্বাচন করলেও আমার ভোটে কোন প্রভাব পড়বে না। আমি জনগণের প্রার্থী, চাচা নিজে নিজেই প্রার্থী।’
ভাতিজার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়জুল আলম মোহন বলেন,‘গত দুটি নির্বাচনে আমি তাদের (মাসুম মাহমুদ তালুকদার) অনেক ছাড় দিয়েছি। আমি গ্রামসহ এলাকাবাসীর মতামত নিয়ে প্রার্থী হয়েছি। কিন্তু তারা এককভাবেই প্রার্থী হয়েছে। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ^জিত দেব বললেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। কোন প্রার্থী এখনো কোন অভিযোগ জানান নি। আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।
প্রসঙ্গত, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ অক্টোবর এই উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন। উপজেলার ৪৬ টি কেন্দ্রে ঐ দিন এক লাখ ১৭ হাজার ৪০০ ভোটার ভোট প্রদান করবেন।