চাপ নিতে পারছে না শহরের প্রবেশ সড়ক/ ভোগান্তি বেড়েছে চলাচলে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহরের প্রবেশ সড়ক (আলফাত স্কয়ার থেকে ওয়েজখালী) এখন আর যানবাহনের চাপ নিতে পারছে না। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সড়কে ভিড় লেগে থাকে যানবাহনের। অসহ্য হয়ে ওঠেন পথচারীরা। জেলা শহরের ব্যস্ততম সড়কের ভিড় সামলাতে সংশ্লিষ্ট সকল উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা চাইলেন পৌর মেয়র।
সুনামগঞ্জ জেলা একসময় আসামের কামরূপ বা প্রাগজ্যোতিষপুর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতিহাসে উল্লেখ আছে সুনামদি (সুনাম উদ্দিনের আঞ্চলিক রূপ) নামের মোগল সিপাহীর নামানুসারে সুনামগঞ্জের নামকরণ হয়েছিল । ১৮৭৭ সালে সুনামগঞ্জ মহকুমা এবং পৌরসভা হয়েছিল ১৯১৯ সালে। ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয় এই প্রান্তিক শহর। সীমান্তবর্তী এই শহরে উল্লেখ করার মতো বৃহৎ কোন উন্নয়ন কাজ হয় নি। শহরে প্রবেশের একমাত্র সড়কের বিকল্প হয় নি এখনো। এক সড়কেই প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে শত বছরেরও পুরোনো এই সীমান্ত শহরে।
সড়কটি এখন রীতিমত যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠেছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালগামী মানুষের যাতায়াতের চাপ সইতে পারছে না এই পথ। সন্ধ্যার পর আন্তঃজেলা বাস পথের পাশে রেখে চলাচল পথ সংকোচিত করায় ভোগান্তি আরও বাড়ে। সড়কটিতে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকে।
এই পথ দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল রীতিমত যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠেছে। একই অবস্থা ডিএস রোডের আলফাত স্কয়ার থেকে সুনামগঞ্জ সদর থানার সামনের অংশ পর্যন্ত।
আলফাত স্কয়ার এলাকার ব্যবসায়ী দাস ব্রাদার্সের পরিচালক রাজন দাস বললেন, যানবাহনের চাপতো আছেই, যত্রতত্র যানবাহন রাখায় সমস্যা বাড়ছে। বিশেষ করে অটো রিক্সা সিএনজি যেখানে ইচ্ছা, সেখানে যাত্রী তুলছে, পার্কিংও করছে। ট্রাফিক কন্ট্রোল আরও আন্তরিকভাবে করা জরুরি।
স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী সুনামগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক এনামুল হক বললেন, যানবাহন বেড়েছে, সড়ক সেইভাবে প্রশস্ত হয় নি। অপরদিকে সড়কের উপরে যত্রতত্র রাখা যানবাহনের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে।
ব্যবসায়ী ও চেম্বারের পরিচালক নূরে আলম বললেন, যাতায়াত পথ ভোগান্তির হলে, ওই এলাকায় ক্রেতাও কমে যায়। স্টিমারঘাট থেকে পুরাতন বাসস্টেশন এবং আলফাত স্কয়ার থেকে সদর থানার সামনের অংশ পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে এখন।
পৌর কাউন্সিলর গোলাম সাবেরীন সাবু বললেন, আব্দুজ জহুর সেতু চালু হবার পর থেকেই সড়কে ভিড় বেড়েছে, যাতায়াত পথ সুগম হওয়ায় শহরে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, জমজমাট হয়েছে শহর। এই অবস্থায় শহরকে চলাচল উপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। স্টিমারঘাট থেকে হাসনতোড়ন পর্যন্ত অংশকে ডিভাইডার করতে হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান চেখনিখাড়া থেকে মোল্লাপাড়া সড়কের অবকাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন, এই সড়ককে সারাবছর চলাচল উপযোগী করতে হবে। পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নীলপুর থেকে আমবাড়ি সড়ক পর্যন্ত (পূর্বাঞ্চলের বাইপাস সড়ক) সংযোগ সড়ক করার যে প্রস্তাব করেছেন সেটি বাস্তবায়ন হলেও ভালো হয়। তারমতে আন্তঃজেলা বাসগুলো এখন এই সড়কের আরেক বিষপোড়া হয়েছে। আগে এতো যাত্রীও ছিল না, বাসও কম ছিল, এখন যাত্রী ও বাস দুটোই বেড়েছে। একারণে সন্ধ্যার পর এই সড়কে ভিড় আরও বাড়ে। সব মিলিয়ে শহরের একমাত্র প্রবেশ পথকে চলাচল উপযোগী রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় অন্যান্য জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। ভবিষ্যতে যাতে সমস্যা না বাড়ে সেভাবেই এই বিষয়ে পরিকল্পনা করে এগুতে হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত বললেন, সীমিত সামর্থকে কাজে লাগিয়ে শহরের বাসিন্দা এবং শহরে আগুন্তকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি আমরা। এই চেষ্টাকে ভালোভাবে এগিয়ে নিতে মাননীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মহোদয়গণের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্টিমারঘাট থেকে ওয়েজখালী পর্যন্ত অংশকে ডিভাইডার করতে সড়ক বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তারা এখানে তিন মাস আগে এই বিষয়ে সমীক্ষা কার্যক্রমও চালিয়েছেন। আমাদের কাছে তাদের পক্ষ থেকে যে যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, আমরা সেটি করেছি, এই বিষয়ে অগ্রগতি তারাই জানাতে পারবেন। শহরের অন্য বিকল্প সড়ক পথেরও কিছু কাজ করেছে পৌরসভা। এই বিকল্প সড়কের মধ্যে হাজীপাড়া-নতুনপাড়া-শান্তিবাগ হয়ে হাছননগর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ। দক্ষিণ নতুনপাড়া থেকে কালীপুর পর্যন্ত সড়ক, আবার বিক্রমপুর কবরস্তান থেকে কালীপুর পর্যন্ত সড়ক সংযোগ করার কাজও হচ্ছে। এই সড়কগুলো হলে প্রধান সড়কের উপর কিছুটা চাপ কমবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং বললেন, আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) থেকে পাঁচ কিলোমিটার চার লেন সড়ক করার ট্রাফিক সার্ভে হয়েছে। এখন প্রকল্প প্রস্তুতির কাজ চলমান আছে।