চার বছর পর আবার বিশ্বকাপ

এনাম আহমদ
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ফুটবল। আর ক্রিড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় উন্মাদনার নামও হলো বিশ্বকাপ ফুটবল। সেই উম্মাদনা ছাপিয়ে যায় জাতি -ধর্ম-বর্ণ-সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। নিজ দেশ বিশ্বকাপে খেলুক আর না খেলুক, উত্তেজনার তাতে কিছুই যায় আসে না। বিশ্বকাপ এলেই শুরু হয়ে যায় ঘরের চালে, গাছের ঢালে ব্রাজিল- আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ানো। বিশ্বকাপ জ্বরে মাতোয়ারা হয় পুরো দুনিয়া। ৪ বছর পর আবারো ফুটবল দুনিয়ায় ঝড় তুলতে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। করোনা মহামারীকে পাশ কাটিয়ে, দ্রব্যমূল্যের মহামারীকে সাথে নিয়ে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আসর দৃশ্যমান হতে চলেছে। ফিফা হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। ১৯৩০ সালে ১৩টি দেশ নিয়ে উরুগুয়েতে প্রথম এই বৈশ্বিক ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রতি চার বছর পর পর এটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঝে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্ব মাসব্যাপী চললেও এর বাছাই পর্ব চলে তিন বছর। দর্শক সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম অনুষ্ঠান। ফিফার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখেছেন বিশ্বের ৭১ কোটি ৫০ লক্ষ দর্শক। সর্বশেষ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে রাশিয়ায়। সেবার ফ্রান্স বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ব্রাজিলই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা বিশ্বকাপের সবগুলো আসরে অংশগ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ পাচঁবার শিরোপা জিতেছে। প্রথম দিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের মূল সমস্যা ছিল বিশ্বব্যাপী দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দেশে দেশে যুদ্ধাবস্থা। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপে। দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ ইউরোপে গিয়ে খেলতে আগ্রহী হলেও কেবল ব্রাজিলই শেষপর্যন্ত এ দুটি আসরে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
১৯৫০ সালে বিশ্বকাপে প্রথম কোন ব্রিটিশ দল অংশ নেয়। এর আগে ব্রিটিশ দলগুলো ফিফাকে বর্জন করে আসছিল। এর কারণ ছিল তাদের অহংকার! যে সব দেশ ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধিকার আন্দোলনে লিপ্ত ছিল, তাদের সাথে ব্রিটিশরা খেলতে চাইতো না। প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী উরুগুয়েও পরবর্তীতে দুটি বিশ্বকাপ বর্জন করে। ১৯৫০ সালে তারা আবারো খেলায় ফিরে এসে বিশ্বকাপ জিতে নেয়। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৯টি দল বিশ্বকাপে অংশ নিত। এর মধ্যে অধিকাংশ দলই ছিল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার। অল্প কিছু দল খেলেছে উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া থেকে।
১৯৮২ তে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২৪ করা হয়। এরপর ৯৮তে এর সংখ্যা করা হয় ৩২। এতে এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকা থেকে আরো বেশি দল আংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তবুও বিশ্বকাপে চলতে থাকে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দাপট। এবারের বিশ্বকাপের বাচাই পর্বে রেকর্ড ২১০টি দল অংশগ্রহণ করে। এটি বিশ্বকাপের ২২তম আসর হলও অনেক কিছুই প্রথম! আবর দেশ হিসেবে কাতার প্রথম, নভেম্বর -ডিসেম্বর মাসে বিশ্বকাপ আয়োজন এবারই প্রথম, ছোট আয়তনের দেশ হিসেবে কাতারই প্রথম! কাতারের আয়তন ১১,৪৩৭ বর্গ কিলোমিটার যা সিলেট বিভাগের আয়তনের চেয়েও ছোট! ৩২টি দল নিয়ে এবারই শেষ বিশ্বকাপ। পরর্বতীতে বিশ্বকাপগুলো হবে ৪৮ দল নিয়ে। কাতার মধ্যেপ্রাচ্যের দেশ হওয়ায় সূর্য্যরে তাপ অনেক বেশি হবে। যা খেলোয়ার দর্শক, আয়োজক, সবার জন্যই বিড়ম্বনার কারণ হবে। এই তীব্র গরম মোকাবেলার জন্য ব্যবহার করা হবে শীতলীকরণ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। (চলবে)
লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।