চালকের আসনে বাংলাদেশ

সু.খবর ডেস্ক
মাউন্ট মঙ্গাইনুয়েতে প্রথম দুই দিনের মত তৃতীয় দিনেও দুর্দান্ত খেললো টাইগাররা। যেখানে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এশিয়ার বাইরে প্রথমবার কোনো দেশের মাটিতে লিড নিতে সক্ষম হয়েছে দলটি। তবে শেষ সেশনে বোল্টের বোলিং তাণ্ডবে সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মুমিনুল—লিটন। দিনশেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ৭৩ রানে। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪০১ রান। ইয়াসির আলী ৩৫ বলে ১১ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৮ বলে ২০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।
বাংলাদেশ দিন শুরু করে ২ উইকেটে ১৭৫ রান নিয়ে। আগের দিন দারুণ ধৈর্য দেখানো জয় আজ শুরু থেকেই ছিলেন নড়বড়ে। কিন্ত অনিয়ন্ত্রিত শটে ইনিংসের সমাপ্তি টানলেন তিনি। অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল কাট করতে গিয়েছিলেন। শরীর বলের পজিশনে গেলেও শট ছিল অনিয়ন্ত্রিত। টাইমিংয়ে গড়বড় হয়েছে। ফলে নিকোলসের তালুবন্দি হয়ে ২২৮ বলে ৭৮ রানে বিদায় নেন জয়। তার পর মুমিনুলও ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন কাইল জেমিসনকে। কিন্তু কিউই পেসার তা হাতে জমাতে পারেননি।
নতুন বল নেওয়ার আগের ওভারে তো ভাগ্যের ছোঁয়ায় বেঁচে যান মুমিনুল। নিল ওয়াগনারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার পায়ের নো বল দেওয়ায় জীবন পান বাংলাদেশ অধিনায়ক। লাঞ্চ বিরতির ২০ মিনিট আগে ব্যক্তিগত ১২ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হন মুশফিক।
প্রথম সেশনে দুটি উইকেট পড়লেও দ্বিতীয় সেশনে জুটি গড়ে খেলেছেন লিটন দাস ও মুমিনুল হক। দুজনেই ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করেছেন। মুমিনুল টেস্ট ক্রিকেটের ১৫তম ফিফটি পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি। এর আগে ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে ৬৪ রান করেছিলেন। অন্যদিকে লিটনের এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ফিফটি। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের এটি ১১তম টেস্ট ফিফটি। এর আগে ওয়েলিংটনে ২০১৯ সালে করেছিলেন সর্বোচ্চ ৩৩ রান। অর্ধশতক করার পথে লিটন খেলেছেন ৯৩ বল, ব্যাট থেকে এসেছে ছয় বাউন্ডারি।
দুর্দান্ত এক জুটিতে কিউই বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মুমিনুল—লিটন। বাংলাদেশকে লিড এনে দেওয়ার পাশাপাশি স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিচ্ছিলেন তারা। দুজনেই সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু কিউই পেসার বোল্ট দুজনকেই প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করালেন। দলীয় ৩৬১ রানে বাঁহাতি পেসারের ভেতরে ঢোকানো বলে ব্যাট নিতে পারেননি মুমিনুল। সেঞ্চুরি থেকে ১২ রান দূরে থাকতে টেস্ট অধিনায়ক এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ধীর গতির ইনিংস খেলে মুমিনুল ফেরেন সাজঘরে। ২৪৪ বলে সাজান ৮৮ রানের ইনিংসটি। যেখানে বাউন্ডারি মেরেছেন মাত্র ১২টি। লিটনের সাথে জুটি গড়েছেন ১৫৮ রানের।
মুমিনুল ফেরার দুই ওভার পর সাজঘরে ফিরলেন লিটনও। বোল্টের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৮৬ রানে। ১৭৭ বলে ১০ বাউন্ডারিতে চোখ ধাঁধানো ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন তিনি।
সূত্র : সমকাল