চালক শহীদকে বহিস্কার করেছে সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে যাত্রীবাহী বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় জড়িত বাস চালক শহীদ মিয়াকে বহিস্কার করেছে সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৪১৮)। সংগঠনের জেলা কমিটির আহ্বায়ক মুহিত মিয়া বুধবার বিকাল ৩ টায় এ প্রতিবেদককে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আজীবন পরিবহন সেক্টর থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছিল সুনামগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৮৬৬)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অপরাধকারীরা সুনামগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৮৬৬) এর সদস্য নয়। তারা সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৪১৮) এর সদস্য। তবে তাদের বর্তমান পরিচয় তারা অপরাধী। তারা যে সংগঠনেরই হোক না কেনো, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায়  সুনামগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৮৬৬) তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আজীবন পরিবহন সেক্টর থেকে বহিষ্কার করার জন্য সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৪১৮) এর প্রতি জোর দাবি জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
বুধবার বিকাল ৩ টায় সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৪১৮) এর আহ্বায়ক মুহিত মিয়া জানান, ঘটনায় জড়িত চালক শহীদ মিয়া সংগঠনের কুমারগাঁও শাখার সদস্য। বুধবার সকালে তাকে ওই শাখা থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বিকাল ৩ টায় সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং- ১৪১৮) থেকে তাকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়।
মুহিত মিয়া বলেন, শহীদ মিয়া সিলেটের পরিবহন সেক্টরের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। শ্রমিকদের ভাবমূর্তিও তার জন্য নষ্ট হয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোন দিন সিলেট অঞ্চলে ঘটে নি। সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন তার কোন দায় দায়িত্ব নেবে না। তাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এই পরিবহন শ্রমিক নেতা।
বাসের কন্ড্রাক্টর ও হেলপার সিলেট জেলা কিংবা কোন শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কিছু নেই। তাদের দায় দায়িত্ব সংগঠনের নয়। এদেরকে চালকই নিয়োগ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, বাসের চালক বা কন্ড্রাক্টরের পরিচয় বাস মালিকের কাছে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদ।
জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য বলেছেন, বাসের চালকের সহকারীর দায় বাস মালিককেই নিতে হবে। সে অঘটন ঘটাবে বাস মলিক বলবেন, তাকে আমরা নিয়োগ দেই নি। তা হতে পারে না। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বাসে চলাচলে নারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগবেন।
সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া জানালেন, এখন থেকে বাসে চালক হেলপারসহ সকল স্টাফের নিয়োগের বিষয়টি তদারকি করবেন তারা।
প্রসঙ্গত, ২৬ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে সিলেটের লামাকাজী থেকে দিরাইয়ে যাচ্ছিলেন ওই কলেজ ছাত্রী। দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে এসে যাত্রীবাহী ওই বাসে একা হয়ে যান ওই ছাত্রী। অন্য যাত্রীরা নেমে যায়। এসময় চালক ও হেলপার কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সম্ভ্রম বাঁচাতে ওই ছাত্রী চলন্ত বাস থেকেই লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে সড়কের পাশ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দিরাই হাসপাতালে নেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে নির্যাতিতার স্বজনসহ স্থানীয়রা রাতে দিরাই থানার সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ বাসটি জব্দ করে।
এঘটনায় শনিবার রাতেই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাসের চালক শহীদ মিয়া ও হেলপার রশিদ আহমদকে আসামী করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। রোববার গভীর রাতে বাস মালিক সমিতির সহায়তায় হেলপার রশিদ আহমদকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। মঙ্গলবার আব্দুল রশিদ সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব নূরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠান আদালত। নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরের মজলিশপুর গ্রামে। সে দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ওই ছাত্রী বর্তমানে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।