চাহিদামত টাকা না দিলে শ্রমিকদের মারধর

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরের টেকেরঘাট, বাগলী ও চারাগাঁও এলাকা থেকে নৌপথে চুনাপাথর ও কয়লা পরিবহনে নদীপথে টোল আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন নৌ পরিবহন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
পরিবহন নৌকা মালিকদের অভিযোগ, তাহিরপুরের পাটলাই নদীতে টোল আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। চাহিদামত চাঁদা না দিলে ইজারাদারের মারধরের শিকার হচ্ছেন নৌকার শ্র্রমিকরা। চাঁদাবাজি বন্ধ ও নদীপথ নিরাপদ রাখার জন্য চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ২১ টি নৌকার মালিক।
বৃহস্পতিবার নৌকা মালিকদের পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেন জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার কামিনীপুর গ্রামের মো. জাকির হোসেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসিকে দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহিরপুর সীমান্তের টেকেরঘাট, বাগলী ও চারাগাঁও এলাকা থেকে নৌপথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুনাপাথর ও কয়লা পরিবহন করে কয়েক শত শত নৌকা। এই পরিবহন ব্যবসায় হাজারো নৌকা মালিক ও শ্রমিকের সংসার চলে। পথে তাহিরপুরের পাটলাই নদীর মেন্দিআতা ও কামালপুর গ্রামের কাছে চাঁদা আদায় করেন উজান তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ উদ্দিন, বালিজুরি গ্রামের যুবরাজ ও জিল্লুর রহমান। তারা পাটলাই নদীতে প্রতি নৌকা থেকে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। চাহিদামত টাকা না দিলে নৌকার শ্রমিকদের মারধর করা হয়। টাকা নিয়ে কোন রশিদ দেওয়া হয় না। রশিদ চাইলে শ্রমিকদের প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী মো. জাকির হোসেন বলেন,‘নদীতে চাঁদা দিতে দিতে আমরা অতিষ্ট পড়েছি। পাটলাই নদীতে হাফিজ, যুবরাজ ও জিল্লুর জোর করে চাঁদা আদায় করছে। ২০০ টাকার স্থলে ২ হাজার ও ৫০০ টাকার স্থলে ৫ হাজার আদায় করছে তারা। চাহিদামত টাকা না দিলে নৌকার শ্রমিক ও সুকানীদের মারধর করে। চাঁদার রশিদ চাইলে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীপথে চাঁদা আদায়কারী অভিযুক্ত হাফিজ উদ্দিন তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। জোর করে চাঁদা অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে হাফিজ উদ্দিন বলেন,‘ আমরা চাঁদাবাজ নই, বৈধ ইজারাদার। ইউএনও অফিস থেকে এক কোটি ৮ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। জিল্লুর রহমান আমার ব্যবসায়িক অংশিদার। নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায় করছি। নদীর দুই তীরে আমাদের সাইনবোর্ড টানানো আছে। কাউকে মারধর করে বা জোর করে টাকা আদায় করি না। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন,‘ বেশ কয়েক দিন আগে পাটলাই নদীতে জোর করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ইজারাদারকে ডেকে অতিরিক্ত টোল আদায় না করতে বলা হয়েছিল। আবারও নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ্ বলেন,‘ সুনামগঞ্জের কোন নদীপথে জোর করে টাকা আদায় বা চাঁদাবাজি চলবে না। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং নদীপথ নিরাপদ রাখা হবে। ’
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন,‘ আমি অফিসের কাছে ঢাকায় আছি। সিলেটে এসে তাহিরপুরের নদীপথের অভিযোগের বিষটি দেখব এবং তদন্তসাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’