ছাতকে অটো স্ট্যান্ড বসিয়ে ভূমি দখলের চেষ্টা

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে অন্যের ভূমি জোর দখল করে অটো স্ট্যান্ড ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি দখলবাজ চক্র। শহরের ফকিরটিলা এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পাশে চেলা ও সুরমা নদীর তীর সংলগ্ন ২৬ শতক ভূমিতে অটোস্ট্যান্ড বসিয়ে ফকিরটিলা এলাকার এই চক্র জোরপূবর্ক ভূমি দখল নেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শহরের বাগবাড়ী এলাকার আব্দুস সুবহানের পুত্র আব্দুস শহীদ।
মঙ্গলবার দুপুরে ছাতক প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
তিনি জানান, ১৯৭৭ ইং সনে ৬৬০০ দলিলে বাগবাড়ি গ্রামের আব্দুস সোবহান ও একই সনে ৬৪৭৯ দলিলে আব্দুস সোবহানের পুত্র ভানু মিয়া ২৬ শতক ভূমির ক্রয় সূত্রে মালিক ও দখলদার। তারা দীর্ঘদিন এই ভূমিতে বালু—পাথর ড্রাম্পিং করে ব্যবসা করেছেন। আব্দুস সোবহান মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকার সূত্রে তার পুত্রগণ ভূমির মালিক হয়েছেন। কিন্তু গত ২ বছর ধরে বালু—পাথর ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ায় ওই ভূমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে ফকিরটিলা গ্রামের ফারুক মিয়া, ইলিয়াছ মিয়া, বাহারুল হক, এস এম কয়েছসহ কতিপয় লোকজন ভূমিতে ইট—বালু ড্রাম্পিংও জমি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এতে আপত্তি জানান, আব্দুস সোবহানের পুত্র আব্দুস শহিদ। প্রতিপক্ষরা এখন ওই মুল্যবান ভুমির দখল ছাড়তে নারাজ। তারা স্থায়ীভাবে ভূমি দখলে নিতে নানা ধরনের পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। একাধিক বার ওই ভূমি তাদের কাছে বিক্রি করারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
আব্দুস শহিদ জানান, তাদের নামে নামজারিকৃত শারপিন টিলা সংলগ্ন নদীর পাড়ের ভূমি দখলে নিতে কাঁটাতারের বেড়া ও দিয়েছে প্রতিক্ষের লোকজন। তারা বারবার তার কাছে বিভিন্ন ভাবে চাঁদাও দাবি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গত ৭ জানুয়ারি তাদের ভূমি দেখাশোনা করতে যান তিনি। ওই সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তার উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি আব্দুস শহিদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট আদালতে ফকিরটিলা গ্রামের ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে ভূমিতে অটো স্ট্যান্ড বসিয়ে বিভিন্ন ভাবে চাঁদা আদায় এবং ভূমি মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে ফকির টিলা গ্রামের ফারুক মিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গত ৯ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের আমলগ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করেন আব্দুস শহিদ। এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। স্থানীয় সালিশএকাধিক বার উপেক্ষা করেছে ফারুক মিয়াসহ দখলদাররা।
সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেছেন আব্দুস শহিদ। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মকবুল আলী, হাজী আবুল হায়াত,আব্দুল কাহহার, একঅরামুল হক, এমদাদুল হক ও ফকির টিলা শাহ আরেফিন মোকামের খাদেম সুনু মিয়া।