ছাতকে বাঁধের কাজে ধীরগতি

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে শম্ভুক গতিতে চলছে হওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ। নির্ধারিত সময়ের অতিক্রান্তের পর ২য় দফা সময়ের মধ্যেও বাঁধের কাজ শেষ করতে পারেনি গঠিত পিআইসিগুলো। সাধারন কৃষকদের মতে এখনো বাঁধের শতকরা প্রায় ৩৫ ভাগ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। কোন-কোন বাঁধে এখনো মাটি ভরাট কাজ করতে দেখা গেছে। বাঁধ নির্মাণ কাজে ধীর গতিতে শংকিত হয়ে পড়েছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা । বেশীর ভাগ বাঁধের মাটি ভরাট কাজ শেষ হলেও ড্রেসিং, ঘাস লাগানোসহ অন্যান্য কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। বাঁধের কাজ আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই শেষ হবে দাবি করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়েজিত কর্মকর্তারা। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবির সাথে ফসল রক্ষা বাঁধের বর্তমান অবস্থা বেশ গড়মিল রয়েছে। নির্মাধিন বেশীর ভাগ বাঁধের স্লোপ সঠিক মাপে হয়নি। স্লোপ ঠিক মতে না হওয়ায় লাগাতার বৃষ্টিতে মাটি গড়িয়ে পড়ে বাঁধের ক্ষতি সাধিত হতে পারে। ফলে আগাম বন্যার পানির স্রোতে এসব ফসল রক্ষা বাঁধ হুমকির কারণ হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, চলমান গতিতে কাজ করলে বাঁধের কাজ শেষ হতে অন্তত আরো দু’ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে বাঁধের সম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত না হলে বৃষ্টির কবলে পড়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মূখীন হতে পারে পিআইসিগুলো।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করতে না পারায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে এবছর প্রায় ২ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ১৮টি পিআইসির অনুকুলে দেয়া সরকারী বরাদ্দ পুরানো বাঁধ সংস্কার, মাটি ভরাট, গর্ত ভরাট, ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরন, ড্রেসিং করা, ঘাস লাগানোসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় করার সাবার্থে। হাওর পাড়ের একাধিক কৃষক জানান, বোরো ফসল রক্ষায় প্রতিবছর সরকার কোটি-কোটি টাকা বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যয় করে আসছে। বাঁধ নির্মাণের নামে প্রতিবছরই সরকারে টাকা লুটপাট ও ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। চলতি বছরে ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজারের চাউলীর হাওর, ডেকার হাওর, মাছুখাল, তারাপুর খাল, কুড়িবিল, লক্ষণসোম কান্দি, মোঘলগাঁও, বাগারাই, দেবেরেগাঁও, চরমহল্লা ইউনিয়নের ৩টি পিআইসি’র মধ্যে চানপুর ও কামরাঙ্গি এবং নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর ও মির্জাখালের বাঁধ মেরামতের কাজ গঠিত ১৮টি পিআইসির হাতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সরজমিনে চরমহল্লা, জাউয়া ও নোয়ারাই ইউনিয়নের কয়েকটি বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের নির্ধারিত ভাঙ্গা বন্ধকরন ও মোরামত কাজ চলছে শম্ভুক গতিতে। চাঁনপুরের বাঁধের নির্মাণ কাজ এখনও শতকরা ৩৫ ভাগ রয়েছে অসমাপ্ত। কয়েকজন শ্রমিক মাটি ভরাট করছেন গতিহীনভাবে। এসময় দু’জন লোককে ঘাস লাগাতে দেখা গেছে।
এ পিআইসি’র সভাপতি শাহাব উদ্দিন দাবি করে জানান, বাঁধের কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে।
১৮নং পিআইসি’র সদস্য সচিব আবুল কাশেম কবীর বলেন, ডেকার হাওরের ডুবন্ত বাঁধ মেরামতে ১৪ লাখ ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে এখন ড্রেসিং ও গাছ লাগানো চলছে।
১নং পিআইসি’র সভাপতি আব্দুল হক জানান নাইন্দার হাওরে ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গ বন্ধকরন কাজে ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকার বরাদ্দ রয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজর প্রায় শেষ।
৫নং পিআইসি’র চাইলির হাওরে ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরন ও মেরামতের জন্য প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার কাজ চলছে। এখানেও মাটি ভরাট কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিআইসি’র সভাপতি নুরুজ্জামান। ড্রেসিং ও ঘাস লাগাতে আরও কয়দিন লাগতে পারে।
পাউবোর কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব উপ-সহকারী প্রকৌশলী খালিদ হাসান জানান, শুক্রবার নির্বাহী প্রকৌশলী চাউলির হাওর ও ডেকার হাওরের বেশ কয়েকটি বাঁধের কাজ পরির্দশন করেছেন। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সকল পিআইসি’র কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইসি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মামুনুর রহমান বলেন, হাওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পিআইসি গুরোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধ নির্মান কাজের নিয়মিত মনিটরিং এর পাশাপাশি দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাঁধ নির্মাণে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না।