ছাতকে হাওরের পানি নিস্কাশনের খাল ভরাটের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
ছাতকের পল্লীতে দুটি ফসলি হাওরের পানি নিস্কাশনের সরকারি খাল দখল চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি নোয়াগাঁওয়ে এই অপচেষ্টা করে এলাকার তিনটি পরিবার। মঙ্গলবার সকালে ট্রাক দিয়ে মাটি এনে খাল ভরাট শুরু করলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), স্থানীয় দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এলাকার সংসদ সদস্যকেও জানিয়েছেন গ্রামবাসী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (মঙ্গলবার বিকাল ৫টা) খাল ভরাট করা চলছিল।
স্থানীয় লোকজন জানান, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চাউলি হাওর ও বড়বিলের পানি নিস্কাশন হয় হাওরের পাশের দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া মুনিরজ্ঞাতি খাল দিয়ে। এই খালটি রাইয়া নদী থেকে বরাং খাল হয়ে ধরা নদীতে মিশেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই খাল ভরাট হলে বিপদে পড়বেন মুনিরজ্ঞাতি ও নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দারা।
মুনিরজ্ঞাতি নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা নূর আলী বললেন, শত বছরের পুরোনো খাল এটি। এই এলাকায় জনবসতি হবার পর থেকে বর্ষায় এই খাল দিয়ে দুই গ্রামের মানুষের হাওরে যাতায়াত। হেমন্তে এই খাল দিয়ে ফসল আনা নেওয়া এবং হাওরের পানি নিস্কাশন হয়ে আসছে। মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের দরিদ্র মৎস্যজীবীরা এই খাল দিয়েই মাছের নৌকা নিয়ে হাওরে যান। হঠাৎ করে খাল বন্ধ হলে মানুষ মহাবিপদে পড়বে।
মুনিরজ্ঞাতি নোয়াগাঁওয়ের সাবেক ইউপি সদস্য আকলু মিয়া বললেন, এই খাল বন্ধ হলে মুনিরজ্ঞাতি নোয়াগাঁওয়ের মানুষ বরই হাওর থেকে কাটা ধান আনা নেওয়া করতে পারবে না। এটি রেকর্ডিয় খাল। কয়েকশ বছর আগে থেকেই শুক্রবন্দ মৌজার এই খাল মানুষ ব্যবহার করছে। সরকারি খাল কেউ ভরাট করতে পারে না। মঙ্গলবার সকালে একসঙ্গে অনেকগুলো ট্রাক দিয়ে মাটি ভরাট শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীলদেরকে গ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়।
দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির বললেন, এই খাল খননের জন্য ইতিপূর্বে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। আমার মেয়াদকালে এখানে কাজ হয়েছে। সরকারি খাল এলাকাবাসীর কাজে লাগছে। পানি নিস্কাশন হচ্ছে। এটি ভরাট করলে অন্যরা সমস্যায় পড়বে।
দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্কর বললেন, এলাকার বেশিরভাগ মানুষ খাল সচল রাখার পক্ষে। দুই-তিনটি পরিবার যারা খাল ভরাট করতে চাচ্ছেন তাদেরকে নিষেধ করেছি, তবুও তারা মাটি ভরাট কাজ চালাচ্ছে। তারা বলতে চায়, এর আগেও কেউ কেউ খাল ভরাট করে দখলে নিয়েছেন, আমি জানিয়েছি আগে দখল হয়ে থাকলেও কেউ অভিযোগ জানায় নি। এখন যেহেতু অভিযোগ হয়েছে, সরকারি খাল ভরাট করা যাবে না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাটি ভরাটকারীদের অফিসে ডেকেছেন।
খাল ভরাটকারী দিলাল হোসেন ও রংফুল বেগম বললেন, বাড়ি থেকে বের হবার কোন পথ নেই আমাদের। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানানোর পর তারা বলেছেন, সরকারি খালে মাটি ভরাট করে সড়ক করা যাবে না। তোমরা মাটি কেটে পথ করে নিলে আমরা পরে কাজ করিয়ে দেব। এজন্য আমরা কাজ শুরু করেছি।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরের জামান চৌধুরী বললেন, সকালেই ওখানে তহশিলদারকে পাঠানো হয়েছে। তহশিলদার আমাকে জানালেন, মাটিভরাটকারীরা বলতে চেয়েছিল, তাদের ৩০-৪০ টি পরিবারের যাতায়াতের কোন পথ নেই। খাল ভরাট করে তারা পথ করছে। আমি বলেছি, এর কোন সুযোগ নেই। খালের উপর কালভার্ট তাদের নিজেদের বা সরকারি উদ্যোগে করতে হবে। খাল বন্ধ করা যাবে না।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজন কুমার সিংহ জানালেন, সরকারি রেকর্ডিয় খাল কারো উপকারে আসুক বা না আসুক, এটি ভরাট করার সুযোগ কারো নেই। তহশিলদার পাঠিয়ে খাল ভরাট করতে নিষেধ করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বললেন, খাল ভরাট করে সড়ক করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলবো।