- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে হাওরে চলছে ধান কাটার মহোৎসব

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে হাওরে হাওরে চলছে বোরো ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াইয়ের মহোৎসব। তীব্র রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এখন বোরো ফসল ঘরে তোলার উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছেন হাওর পারের কৃষাণ-কৃষাণীরা। বর্তমানে হাওরের এ চিত্র ছাতকসহ সুনামগঞ্জ জেলার সর্বত্রই বিরাজমান। প্রচন্ড দাবদাহকে হার মানিয়ে কৃষাণ-কৃষাণীরা এখন বোরো ধান গোলায় তুলে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিন-রাত্রি বিবেচনায় না এনে হাওরজুড়ে কৃষক পরিবারের মধ্যে বইছে এক অনাবিল আনন্দ।
একাধিক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ বছর ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ বোরো উৎপাদিত হয়েছে। এদিকে ধান কাটার ভর মৌসুমে শ্রমিক সংকট অনেকটাই নিরসন করেছে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন। হাওরে ধান কাটতে এখন হারভেস্টার মেশিন কৃষকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছাতক উপজেলার বেশকয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকদের হাতে শতকরা ৭০ ভাগ ভর্তুকী দিয়ে নামমাত্র মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার তুলে দিয়েছে সরকার। ফলে খুব সহজেই বোরো ফসল কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই সম্পন্ন করে ধান গোলায় তুলতে পারছেন এখানের কৃষকরা। রোদে ধান শুকানোর পাশাপাশি গো-খাদ্য খড় শুকানোর কাজটাও একই সাথে করে নিচ্ছেন কৃষকরা। গো-খাদ্য খড় শুকিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় ডিবি আকারে রাখাও কৃষি কাজের একটি অন্যতম কাজ। কৃষকরা ধানের মতো খড় শুকিয়ে নিয়ন্ত্রনে রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওরের কৃষক বশির মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৬ কেয়ার জমিতে রোরো চাষাবাদ করেছেন। প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফসল পেয়েছেন। ক্ষয়-ক্ষতি ছাড়াই ধান গোলায় তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন।
গোদাবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল মুমিন জানান, কৃষি তার বংশগত প্রধান পেশা। ধানের পাশাপাশি শাক-সবজির বাগান, মাছের খামার ও লিচু বাগান রয়েছে তার। এ বছর বোরোর ফলন খুব ভালো হয়েছে। এখন ধানের ন্যায্য মুল্য পেলেই কৃষকরা কৃষিকাজে আরো উৎসাহিত হবে। আগামী ৮-১০দিনের মধ্যেই সিংহভাগ বোরো গোলায় তোলতে পারবে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক হোসেন খান জানান, সরকারি নির্দেশনা মতে বছর জুড়েই আধুনিক চাষাবাদের উপর কৃষকদের দফায় দফায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কৃষিক্ষেত্র প্রসার ও অধিক ফলনের জন্য উন্নতমানের বীজ, রাসায়নিক সার বিনা মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। মাঠ দিবসসহ কৃষি কাজে তদারকি ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন কৃষকদের। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যেই শতকরা ৭০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

  • [১]