ছাতক এসপিপিএম হাইস্কুলে বহিরাগত আতংক/ ইউএনও বরাবরে অভিযোগ

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকস্থ সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিল উচ্চ বিদ্যালয় (এসপিপিএম) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে স্থানীয় একটি মহল অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে আতংক। অনেক অভিভাবক তাদের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— এমন অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
বুধবার সকালে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও কয়েকশ’ অভিভাবক উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরের জামান চৌধুরী বরাবরে এ অভিযোগ দেয়া হয়।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, উন্নয়ন বঞ্চিত এসপিপিএম উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে সরকারের দেয়া প্রায় দেড় কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে স্থানীয় একটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। গত ১০ অক্টোবর বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি ও পাশ্ববর্তি নিটল—নিলয় কার্টিজ পেপারমিলের ভাড়া করা কিছু শ্রমিক অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে আতংকের সৃষ্টি করে। এতে শিক্ষক—শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অজাানা আতংক। অনেক শিক্ষক—শিক্ষার্থী ক্লাস না করে বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আব্দুল মতিন জানান, বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত একটি পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এ পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ আরো কয়েক মাস বাকী রয়েছে। বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে চলছে অভুতপূর্ব উন্নয়ন কার্যক্রম। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বুাধাগ্রস্ত করে বিদ্যালয়ে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে স্থানীয় একটি কুচক্রি মহল।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরের জামান চৌধুরী জানান, বিদ্যালয়ে যারা অকারণে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগ প্রদানকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী বাদশা, পৌর মহিলা কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলী, সাবেক পৌর কাউন্সলর আছাব মিয়া, শিক্ষানুরাগী আনিসুর রহমান চৌধুরী সুমন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, বিদব্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জসিম উদ্দিন, আতাউর রহমান, ইয়াহিয়া আবেদীন বাবু, অভিভাবক সামছু মিয়া, উকিল আলী, ফরুক মিয়া, সৈয়দ মিয়া, আব্দুল করিম, রঞ্জন কুমার দাস, ফকির মিয়া, জমির আলী, শাহ আলম, জাকির হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।