ছালমা-চম্পায় গৌরারংয়ে নারী জাগরণ

বিশেষ প্রতিনিধি
তৃতীয় দফার নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে ব্যতিক্রম গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। শহরতলির বৃহৎ এই ইউনিয়নে দুই নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় ভিন্নতা তৈরি হয়েছে প্রচারণায়। তাদের সমর্থক নারী ভোটাররা প্রচারণায় নামায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ আশপাশ এলাকায় এই ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বেশি।
সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার মল্লিকপুরের আব্দুজ জহুর সেতু পার হলেই গৌরারং ইউনিয়ন। জেলা শহরের অনেক স্থাপনা হচ্ছে এই ইউনিয়নে। এজন্য ইউনিয়নের গুরুত্বও তুলনামূলক বেশি। তৃতীয় দফায় এই ইউনিয়নের নির্বাচন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১০, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২০ এবং সাধারণ সদস্য পদে ৫৭ জন প্রার্থী লড়ছেন। ইউনিয়নের ১২ ভোট কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৮১৬ এবং নারী ভোটার ১৩২৪৮ জন। এই ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচারে ভিন্নতা পেয়েছে দুই নারী সমাজকর্মী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায়। এই দুই প্রার্থীর বদান্যতায় ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন গৃহিণীরাও। ভোটারদের মধ্যেও তাদের ঘিরে আগ্রহ রয়েছে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কৃষক লীগের সদস্য এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা. ছালমা আক্তার চৌধুরী। ইউনিয়নের আহমদাবাদ গ্রামের সভ্রান্ত্র পরিবারে জন্ম এই নারী সমাজকর্মীর। বিনয়ী এই রাজনৈতিক কর্মী জনপ্রতিনিধি হবার প্রত্যাশা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন দীর্ঘদিন ধরেই। এবার নিজের দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পাওয়ায় ভোটযুদ্ধে লড়ার সুযোগ হয়েছে তার। তিনি দলের প্রতীক নৌকার লিফলেট হাতে নিয়ে ঘুরছেন হাওরপাড়ের গ্রামে গ্রামে। ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশিত উন্নয়নের আশ^াস দিয়ে বলছেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী, আমাকে ভোট দিলে আমার নেত্রী খুশী হবেন। আমি আপনাদের দাবি আদায়ে সরকার এবং দলের সঙ্গে দেনদরবার করবো। আমাকে সুযোগ দিন। তিনি বললেন, যেখানে যাচ্ছি, নারী পুরুষ সকলেই আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ইনশাল্লাহ্ বিজয়ী হবো আমি।
আরেক সমাজ কর্মী মোছা. চম্পা বেগম। ইউনিয়নের ভাটি শাফেলায় বাড়ি তার। বাবার বাড়িও একই ইউনিয়নের টুকেরগাঁওয়ে। বাবা মো. তালেব আলী ও ব্যবসায়ী স্বামী কামাল হোসেন দুজনেরই বাড়ি একই ইউনিয়নে। বউ এবং ঝি দুই পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি। ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তার প্রতীক চশমার লিফলেট নিয়ে। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে দলের মনোনয়ন দাবিও করেছিলেন তিনি। দলের তৃণমূল থেকে তার নামও গিয়েছিল কেন্দ্রে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এই সমাজ কর্মী। বললেন, ইনশাল্লাহ্- আশাবাদি, মানুষ আমাকে ভালবাসে।
ইউনিয়নের ভাটি সাফেলার মল্লিকা বেগম বললেন, গৌরারং ইউনিয়নে এর আগে কখনো চেয়ারম্যান প্রার্থী হয় নি কোন নারী। এবার একজন নয়, দুজন প্রার্থী হয়েছেন। তাদের প্রচারণায় আমরা থাকছি সানন্দে। নারীরা মনে করছেন, তাদের উৎসাহ না দিলে, আর কোন দিন কেউ এভাবে সাহস করবে না।
হরিনগর গ্রামের রহিম আলী বললেন, নারী হলেও তারা পুরুষের চাইতে কম করেন না। কেনইবা তাদের আলাদা করে দেখবো আমরা।
হরিনগরের ছাত্রলীগ কর্মী পরাগ দাশ ও গৌরারংয়ের যুবলীগ কর্মী ফজলুর রহমান চেয়ারম্যান প্রার্থী নারীরা হওয়ায় খুশি।
গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক রঞ্জন পুরকায়স্থ বললেন, সুনামগঞ্জ সদরের গৌরারং ইউনিয়নেই কেবল নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী। এজন্য এই ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচারণায় অন্য রকমের আমেজ আছে। এটি ভোটের দিন পর্যন্ত থাকবে আশাকরি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নয় ইউনিয়নে আগামী ২৮ নভেম্বর ভোট। এরমধ্যে কেবল লক্ষণশ্রীতে ইভিএমএ ভোট গ্রহণ হবে।