জগন্নাথপুরে চোর সিন্ডিকেটের চার জন জেলহাজতে

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে গরু চোর সিন্ডিকেটের আটককৃত চার সক্রিয় সদস্য কে আজ রবিবার সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের আলখালাপাড় গ্রামের মৃত সাধু মিয়ার ছেলে সানোয়ার হোসেন সানু (৩৩), একই গ্রামের নজির আলীর ছেলে ছালিক মিয়া ওরফে বাচ্চু( ২৪), জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ভবানীপুরের মৃত গয়াছ আলীর ছেলের আনাই মিয়া (২৬) ও ইকড়ছই এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুস শহিদ (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর এলাকায় এক কৃষকের গোয়ালঘর থেকে ৫টি গরু চুরি করে পিকআপ গাড়ীতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের ধাওয়া করেন। এতে চোররা পালিয়ে গেলেও পিকআপ গাড়ী ফেলে রেখে যায়। শুক্রবার পুলিশ ওই গাড়ীর চালক আব্দুস শহিদ কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে গরু চুরির একটি বিশেষ আস্তানার সন্ধান পায়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে আলখালাপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানোয়ার হোসেন সানুর বাডীতে তল্লাশি করে একটি বিশেষ গোপন কক্ষ থেকে ৭টি চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় পুলিশ আনাই ও বাচ্ছু কে আটক করে। আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ আরো ২২টি গরু উদ্ধার করেছে।
এদিকে থানায় গরুসহ চোর ধরা পড়েছে এমন সংবাদ জগন্নাথপুরসহ উপজেলার আশপাশ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে চুরি যাওয়ার গরুর মালিকগন থানায় ভিড় করেন।
জগন্নাথপুর থানার সামনে কথা হয় উপজেলার বড়কাপন গ্রামের কৃষক ফরহাদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানালেন সম্প্রতি রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে হালের দুটটি গরু চুরি হয়ে যায়। অনেক স্থানে খোঁজাখুজি করেও গরুর সন্ধান মিলেনি। গত শুক্রবার খবর পাইলাম, জগন্নাথপুর থানায় চোরসহ অনেক গরুর ধরা পড়েছে। এই খবর পেয়ে থানায় এসে চুরি যাওয়া দুইটি গরু শনাক্ত করেছি।
অভিযানে অংশ নেয়া জগন্নাথপুর থানার এসআই রাজিব আহমদ জানান, অভিযানেকালে আমরা একটি বাড়ীতে বিশেষ গোপন ঘর দেখতে পাই। সেই ঘরে চুরি যাওয়া ৭টি গরু মিলেছে। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদ আসামারি স্বীকার করেছে চুরি করে আনা গরুগুলো গোপন ঘরে রাখা হত। গোপন ঘরটি কেউ দেখার সুযোগ ছিলনা। তিনি জানান, চুরি যাওয়া গরুগুলো কৃষদের।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গরু চোর সিন্ডিকেলে মূল হোতা সানিসহ আটক চারজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চুরি যাওয়া গরুগুলো সনাক্ত করণের কাজ চলছে।