জগন্নাথপুরে জলাশয় থেকে মাছ চুরির অভিযোগ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে সরকারি ইজারাকৃত দুইটি জলাশয়ে জোরপূর্বক মাছ শিকার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে এবিষয়ে জগন্নাথপুরের ইউএনও’র নিকট পৃথকভাবে দুই ইজারাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দুইটি জলাশয়ে মুজিব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিসহ আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, জগন্নাথপুরের ইউএনওর কার্যালয় থেকে জগন্নাথপুরের বিনিয়ানা ডুবি নামে সরকারি জলমহালটি উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচি গ্রামের চান মিয়া ইজারা মূল্য পরিশোধ করে ১৪২৬ বাংলা সনের জন্য ইজার নিয়ে দখলপ্রাপ্ত হন। কিন্তুু ইজারকৃত জলাশয়ে জোরপূর্বক একই ইউনিয়নের আটঘর দীঘবাক ইউনিয়নের মুজিব উদ্দিন ও জগন্নাথপুরের সীমান্তবর্তী নবীগঞ্জের বাটর গ্রামের আব্দুল হাই, হাছন উদ্দিন গংরা অবাধে মাছ আহরণ করে আসছেন। বাঁধা দিলে উল্টো হুমকি দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে অভিযুক্তরা প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ শিকার করে বিক্রি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগ পত্রে।
গতকাল বুুধবার স্থানীয় সাংবাদিকদের চান মিয়া জানান, সম্প্রতি অভিযোগকারীরা জোরপূর্বক ইজারকৃত জলাশয় থেকে মাছ ধরছে। বাধা দিলে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
এদিকে আশারকান্দি ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামের পবিত্র বিশ্বাস নামে আরেক ইজারাদার একই সময়ে ইউএনওর নিকট জলাশয় থেকে মাছ লুটের অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, ২০২৬ বাংলা সনে জগন্নাথপুরের গুলমা মরা কালনী ও বিবিয়ানা জলাশয়ের একাংশ সরকারি মূল্য পরিশোধ করে তিনি ইজারা নেন। কিন্তু অবৈধভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক জলাশয় থেকে একই ইউনিয়নের আটঘর দিঘলবাক গ্রামের মুজিব উদ্দিন গংরা মাছ শিকার করছেন।
ইজারাদার পবিত্র বিশ্বাস জানান, সরকারের নিকট থেকে ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করে জলাশয় ইজারা এনেছি। কিন্তুু অবৈধভাবে জোর করে জলাশয় থেকে মাছ আহরণ করছে স্থানীয় এক ব্যক্তি এবং বহিরাগতরা। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। বাধ্য হয়েই অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত মুজিব উদ্দিনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মাহফুজুল আলম মাসুম অভিযোগ পত্র পেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।