জগন্নাথপুরে বন্যার পানি কমছে, বেড়েছে দুর্ভোগ

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে দুর্ভোগ। অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার কলকলিয়া, চিলাউড়া হলদিপুর, রানীগঞ্জ, সৈয়দপুর শাহারপাড়া, আশারকান্দি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার একাংশের কমপক্ষে ৬০টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যে বন্যা কবলিত হয়ে পড়া দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যায় তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।
গত বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পরিবার পানির সাথে যুদ্ধ করে চৌকিতে বসবাস করছেন। কেউবা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন আবার অনেকেই আত্মীয় স্বজনদের উঁচু বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের গোপড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে কথা হয় গোপড়াপুর গ্রামের বাসিন্দা সুনতি বালা সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে আমার ৩০টি হাঁস। ঘরের অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তলিয়ে গেছে। সব কিছু হারিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি।
দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোহিনী দাস জানান, ঘরের ভেতর পানি জিনিসপত্র নিয়ে যাবার জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে কষ্ট করে চৌকিতে বসবাস করছি।
সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও সৈয়দপুর গোয়ালাবাজার সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৫০ টি গ্রামের মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। সরেজমিনে মানুষের কষ্ট দেখে সাধ্যমতো ত্রাণ সহায়তা প্র্রদান করেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। আমরা সরকারিভাবে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছি।