- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে বন্যায় দুর্ভোগে লাখো মানুষ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্ভোগে পড়ছেন উপজেলার লাখো মানুষ। বন্যা পানি গতকাল রোববার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করলেও বিভাগীয় শহর সিলেট ও জেলা শহর সুনামগঞ্জের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার আট ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদর পৌরসভার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনে শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও কোন ধরনের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে নি। রোববার থেকে কিছু কিছু আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণ করার খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন উপজেলাবাসী। সরেজমিনে কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, খাবার,পানি সংকট পয় নিষ্কাশন ব্যবস্হা না থাকায় হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। বেসরকারি উদ্যাগেও ত্রাণ বিতরণ চোখে পড়েনি।কথা হয় জগন্নাথপুর পৌর সভা আশ্রয় কেন্দ্রের জগন্নাথপুর সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ গ্রামের হারুন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো করুন অবস্থা বিরাজ করছে। দুই দিন ধরে বৃদ্ধ মা ও দুই অবুঝ শিশু কে নিয়ে না খেয়ে আছি।একবেলা বাজার থেকে মুড়ি কিনে খেয়েছিলাম।পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাড়ী জগন্নাথপুর গ্রামের বাদশা মিয়া। তিনি বলেন কেউ খোঁজ খবর নিতে আসছেনা।শতাধিক পরিবার তারা জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে লাশ দাফনের কোন মাটিও শুকনো নেই। গত দুই দিনে রোববার বের হয়েছি। খোঁজ খবর নিচ্ছি।কোন ত্রাণ পৌঁছাতে পারিনি। জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন,রোববার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করেছি। সব জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে কয়েকজন কে বলেছি বরাদ্দ কৃত চাল নিয়ে বিতরণ করতে।তিনি বলেন সরকারি ভাবে ৪৩ মেট্রিক্স টন চাল ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে। এছাড়াও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আরও ৫শত প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে।তিনি বলেন, পানি গতকাল কিছুটা কমলেও বাসা বাড়িতে পানি রয়ে গেছে। জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি স্মরণ কালের ভয়াবহ দূর্যোগের কবলে পড়ে অনেকেই স্বর্নশান্ত হয়ে গেছেন।অনেক দোকান ও মাছের খামারের মাচ ও মালামাল ভেসে গেছে।

  • [১]