জগন্নাথপুরে বন্যায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, আশ্রয় কেন্দ্রেও ঠাঁই মিলছে না

জগন্নাথপুর অফিস
অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চারদিকে পানি আর পানি। বাসাবাড়িতে পানি ওঠায় মাথা গুঁজতে মানুয় আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটেও ঠাঁই পাচ্ছে না। গত শুক্রবার ভোররাত থেকে জগন্নাথপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলাজুড়ে বন্যা ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ।
সিলেটের বিভাগীয় শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক জগন্নাথপুর-সিলেট সড়ক, জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জসহ জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াতের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌরশহরের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র, জগন্নাথপুর বাজার, উপজেলা পরিষদ, এসিল্যান্ড অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রগুলোতেও পানি উঠেছে। এছাড়া গ্রামীণ রাস্তাঘাট তো ডুবেছেই পানিতে। গত শুক্রবার থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত জগন্নাথপুরের প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিন কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ঠাঁই মিলছে না পানিবন্দি মানুষের। ইকড়ছই সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়, ইকড়ছই আলিয়া মাদরাসা, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রতিটি কেন্দ্রে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এসব কেন্দ্রে ত্রাণের জন্য আহাজারি চলছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজন জানায়, প্রতিটি গ্রামের বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। অনেকের বাড়িঘরে গলা সমান পানি।
অনুমতি বৈদ্য জানান, শুক্রবার ভোর থেকে বসতঘরে পানি প্রবেশ করে। গলা সমান পানি ঘরে থাকায় পরিবারের লোকজন নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়েছি। গত দুই দিন ঘরে এখানে কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। ত্রাণের জন্য মানুষের মধ্যে আহাজারি চলছে।
পৌর এলাকার খালিকনগরের বাসিন্দা আলামিনের সঙ্গে কথা হয় বন্যাকবলিত এলাকায়। তিনি জানান, ভোররাত থেকে পানি বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে পুরো খালিকনগর নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার স্থানীয় খালিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান না পেয়ে উঁচু স্থানে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে ছুটছেন। আমি আমার পরিবার নিয়ে শহরের ইকড়ছই এলাকায় আশ্রয় পেয়ে সেখানে যাচ্ছি।
নলুয়া হাওরবেষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমাদের পুরো ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি। গোলার ধান, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাওরপাড়ের মানুষ।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে জগন্নাথপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট কাজ করছে না।
জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক (বিদ্যুৎ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম জানাল, বন্যায় সিলেটের বড়ইকান্দি বিদ্যুতের সাবস্টেশন পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। ওই সাবস্টেশন থেকে জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আমরা চেষ্টা করছি বিদ্যুৎ সচল রাখার।
জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দি মানুষের জন্য আশ্রমকেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা তৎপর রয়েছি।