জগন্নাথপুরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

জগন্নাথপুর অফিস
৫৪৪ দিন পর খুলেছে স্কুল-কলেজ। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায় আনন্দে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেখা যায়, উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামের একটি খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। সাঁকো পারাপারের সময় অনেক শিক্ষার্থীর আনন্দিত মুখ মলিন হয়ে যায় ভয়ে। তবে সাঁকো পার হওয়ার পর বিদ্যালয়ে যেতে পেরে উচ্ছ্বসিত ছাত্র-ছাত্রীরা।
কথা হয় ৫ম শ্রেণির ছাত্রী তাসকিরা ইসলামের সঙ্গে। সে জানায়. গ্রামের সোনাতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। করোনাভাইরাসের কারণে অনেকদিন ধরে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। যে কারণে লেখাপড়ার ক্ষতি হয়েছে। স্কুল খুলেছে, খুবই ভালো লাগছিল। তবে ভয় হচ্ছিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে হবে, এটা ভেবে কিছুটা খারাপ লাগছিল। তবে সাঁকো পার হওয়ার পর এখন খুশি লাগছে, বিদ্যালয়ে যেতে পারবো।
তার মতো অনেক শিক্ষার্থীই সাঁকো পার হতে ভয় পায় বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এই সাঁকো দিয়ে সোনাতনপুর, কুরিহাল ও আহমদাবাদ এই তিন গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে আসছে ।
সকাল সাড়ে ১০টায় সোনাতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৫ম ও ৩য় শ্রেণি কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পড়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি এরমধ্যেই স্কুল পরিস্কার পরিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। হাত ধোয়ার জন্য পানির টেপ রাখা হয়েছে। রয়েছে সাবানও।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নেছার আহমদ জানান, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্ষা মৌসুমে সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হয়। এতে করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানালেন, তাঁর বিদ্যালয়ে মোট ৯৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গতকাল সরকারি নির্দেশনা অনুয়ারি সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ৫ম ও ৩য় শ্রেণির ক্লাস হয়েছে। বিদ্যালয় খোলায় ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়জুল ইসলাম জানান, সোনাতনপুর গ্রামের ওপর একটি কালর্ভাট নির্মাণের জন্য আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহ জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুয়ারি জগন্নাথপুরে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠদান শুরু হয়েছে। প্রথমদিনে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল। তিনি জানান, জগন্নাথপুরে মোট ১৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে সরকারি ১৫৫টি এবং বেসরকারি ৩টি বিদ্যালয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ করোনভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা ভালো হওয়ায় রবিবার থেকে স্কুল-কলেজ খুলেছে।