জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আজ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ বুধবার। উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৫ হাজার ৩২৩ জন এবং নারী ভোটার ৯৩ হাজার ৭১৬ জন। নির্বাচনে স্থায়ী বুথ রয়েছে ৫২৯টি ও অস্থায়ী ৭০টি। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন পুলিশ সদস্য, ১২ জন আনসার সদস্যসহ পর্যাপ্ত র‌্যাব, বিজিবি, ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিষ্ট্রেট উপস্থিত থাকবেন। মঙ্গলবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া জরুরী প্রয়োজনে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং টিম সার্বক্ষণিক ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাদা পোষাকে জেলা বিশেষ শাখার সদস্য ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা প্রতিটি কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রের আইন—শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণে সার্বক্ষণিক বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণও উপস্থিত থাকবে।
মঙ্গলবার জগন্নাথপুর থানা প্রাঙ্গণে ব্রিফিং প্যারেডে নির্বাচনের ডিউটিতে মোতায়েনকৃত অফিসার ও ফোর্সদের আইন—শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ নির্বাচনী ডিউটিতে মোতায়েনকৃত প্রত্যেক পুলিশ ও আনসার সদস্যকে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনসহ নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু সাঈদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি পারভেজ আলম চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান প্রমুখ। দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও জগন্নাথপুর নির্বাচন অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান খান।
এদিকে নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন উপলক্ষে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে ২ নভেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক ও পিকআপ এবং ৩ নভেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে বুধবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, ইঞ্জিন চালিত সকল নৌ যান এবং স্পিড বোট চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে ভোটারদের চলাচলের জন্য ক্ষুদ্র নৌযান নিষেধাজ্ঞা বর্হিভূত থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি বিদেশী পর্যবেক্ষক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা—কর্মচারী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং কতিপয় জরুরী কাজে যেমন—এ্যাম্বুরৈন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ, ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
নির্বাচনে চেয়ারম্যন পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আকমল হোসেন (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা (আনারস), জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (খেজুর গাছ) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস চৌধুরী লিটন (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সৈয়দ তুহেল মিয়া (টিউবওয়েল), মো. আব্দুল মতিন লাকি (টিয়াপাখি), জয়দ্বীপ সূত্রধর (বীরেন্দ্র) (তালা), মো. ছালেহ আহমদ (চশমা), আবুল হোসেন লালন (মাইক)।
সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রীনা বেগম (কলস), মোছা. সুফিয়া খানম সাথী (ফুটবল), সেলিনা বেগম (হাঁস)।
জগন্নাথপুর উপজেলা নিবার্চন কর্মকতার্ মুজিবুর রহমান বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নিবার্চন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমরা শেষ করতে চাই। এজন্য সকল প্রস্তুুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, শান্তির্পূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্নের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৭ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে স্থগিত করা হয় নির্বাচন। গত ২০ সেপ্টেম্বর পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে ২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন উপলক্ষে গত সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার—প্রচারণা।