জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কে জনদুর্ভোগ

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর (জগন্নাথপুর-সিলেট) সড়কে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন এই সড়কের একাংশে বৃষ্টির মৌসুমে কাজ শুরু করায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। অভিযোগ উঠেছে সংস্কারের নামে ধীরগতিতে কাজ করায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট শহরের সঙ্গে জগন্নাথপুরবাসীর যোগাযোগের একমাত্র জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের পৌর এলাকার বটেরতল, হামজা কমিউনিটি সেন্টার, হবিবপুর, ভবেরবাজার, ইসহাসপুর, মিরপুর, মেঘারকালি, কেউনবাড়ী এলাকায় গর্ত আর খানাখন্দ। যানচলাচল অনুপযোগি হয়ে উঠেছে। বড়, বড় গর্তে পানি জমে রয়েছে।
তবে সড়কের পৌর এলাকার হাসপাতালের নিকটবর্তী ছিক্কা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কিছু শ্রমিক সড়কে কাজ করছেন। তবে ওই সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাত্রনেতা তোফাজ্জল হক সুমন বলেন, সংস্কারের অভাবে সড়কে চলাচল অনুপযোগি হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় সড়কে আধুনিক কাজের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৬ মাস আগে টেন্ডার সম্পন্ন হয়। কিন্তুু বর্তমানে মেঘ-বৃষ্টির এই সময়ে কাজ শুরু করায় অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছি আমরা।
সুলতান মিয়া নামে এক অটোরিকশা চালক জানান, খুবই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কজুড়ে গর্ত আর ভাঙাচোরা থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি আমরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি ও এলাকাবাসী জানায়, সিলেট বিভাগীয় শহরসহ ঢাকার রাজধানীর সঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহালদশা বিরাজ করে করছে। গত বছরের শেষ দিকে জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হলে কাজটি পায় মাদারীপুরেরর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠার হামীম সালেহ (জেভি)। চুক্তি অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ থেকে সড়কে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মার্চের দিকে কাজ শুরু হয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। আগামী বছরের ৩১ মার্চ কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার খোকন মিয়া বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে কার্যাদেশ পেয়েই কাজ শুরু করা হয় সড়কে। কিন্তুু করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজে বিঘœ ঘটেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক আইডিএ এর অর্থায়নে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি ৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। সংস্কার কাজ শেষ হয়ে গেলে জনভোগান্তি আর থাকবে না।