জগলুলের স্মৃতি কেউ ভুলে তো কেউ ভুলে না

ইকবাল কাগজী
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি। ঘটনার এখানেই সূত্রপাত। ইতোমধ্যে রাত ৮টা অতিক্রান্ত হয়েছে বোধ করি। বাংলাদেশের পুস্তক ব্যবসায়ীরা তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যতো বই প্রকাশিত হয়েছে সে-সব বইয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন, আকারে প্রকারে বেশ বড়সড় এবং সুন্দর একটি বই। এই বইটির একটি কপি তাঁরা বর্তমান মেয়র নাদের বখ্তকে উপহার দিয়েছেন। এই নাদের বখ্ত সুনামগঞ্জের বিখ্যাত প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ হোসেন বখ্তের ছেলে। মেয়রের কাছে সোপর্দ হওয়ার আগে ঘটনাচক্রে, কীভাবে জানি না, সেটি আমার টেবিলে স্থান করে নিয়েছে। নেড়েচেড়ে উল্টেপাল্টে দেখলাম। লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক সালেহ্ আহমদকে সেটি দিখিয়ে দিতেই, আর যায় কোথায়, পাঠাগারের জন্যেও এর অন্তত একটি কপি পারলে এক্ষুনি চাই তাঁর, একেবারে তড়বড়িয়ে উঠলেন। যথারীতি তাঁর কেরদারিসমা শুরু হয়ে গেলো এবং প্রকাশিত হলো সদর্পে। সহসাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হাছান শাহীন তৎক্ষণাৎ, গায়ে পড়ে, মুঠোফোনে ধরে পড়লেন একাধারে পুস্তক ব্যবসায়ী ও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ দে কে। পঙ্কজ দে এমনিতে ছেড়ে দেবার পাত্র কীছুতেই নন, বুঝাই গেলো। তিনিও কম যান না। মুঠোফোনের ওপাশ থেকে তিনি ফরমায়েশ পাঠাতে কসুর করলেন না। এখানে সব কীছু প- করার প-িত একজন ইকবাল কাগজী আছেন নিশ্চয়ই, তাঁর একটা লেখা চাই জগলুল ভাইকে নিয়ে, অবশ্যই এবং কালকের মধ্যে। যেনো লেখা গাছে ধরে ফলে মতো লটকে থাকে, পেড়ে নিয়ে দিয়ে ফেললেই হলো, অতীব সহজে হস্তান্তরযোগ্য একটি পদার্থ। শাহীন আমাকে বলে দিলেন, লেখা কিন্তু দিতে হবে, যে-করেই হোক। বুঝ এবার ঠেলা। একেই বলে বোধ করি শিরে সংক্রান্তি।
্ এখানে ‘জগলু ভাই’ মানে বছর দুয়েক আগে প্রয়াত আইয়ূব বখ্ত জগলুল, সুনামগঞ্জের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। তাঁর আগের সকলেই চেয়ারম্যান। তাঁকে নিয়ে একটি লেখা লিখতে হবে। যখন এই ধরণের একটি ফরমায়েস হঠাৎ করেই নাজিল হয়, তখন কেমন একটা বিচ্ছিরি অসহায়ত্বের হাজারটা আঙ্গুল একজোট হয়ে গলা টিপে ধরে, অস্বস্থির আর সীমাপরিসীমা থাকে না। সে-অস্বস্থি আমার নিজের ভেতরে তা-বনৃত্য করুক কিংবা নিভৃতে গুমরেই মরুক, তাতে কীছু কারও যায় আসে না জানি, কিন্তু এই সামূহিক ঘটনাপ্রপঞ্চের নিহিতার্থের মধ্যে একটা অর্থ নিহিত থাকে, সেটাকে এড়িয়ে থাকা যায় না কীছুতেই, আর সে-টা হলে সমাজে ‘কেউ ভুলে কেউ ভুলে না’র সামাজিক ঘটনাপ্রপঞ্চের অনিবার্য উপস্থিতি। প্রকৃতপ্রস্তাবে বাস্তবতাটা এমন যে, একজন জগলুল যে-সমাজে একদা বেঁচে ছিলেন এবং সে-সমাজপরিসরে রাজনীতি করেছেন, পুরপতি হয়েছেন, সে-সমাজে সমাজসেবা করতে গিয়ে হয় তো বা কারও উপকারে লাগতে গিয়ে নিজের অজান্তে অন্যকারও অপকার করে ফেলেছেন, তাঁর মৃত্যুর পর ক’বছর যেতে না যেতেই এই সমাজের অনেক মানুষের স্মৃতির পাতায় যে-ধুলির পরত পড়েছে তাতে ঢাকা পড়ে গেছে একজন আইয়ূব বখ্তের মুখ, বিপরীতে হয়ে তো কারও কারও স্মৃতিতে তাঁর মুখ এখনও উজ্জ্বল, তাঁদের হৃদয়ের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে সে-মুখের মানুষটির বিভিন্ন স্মৃতি ফল্গুধারার মতো বহমান, চিরচঞ্চল কল্লোলিনী সুরমার মতো প্রবাহিত, প্রতিনিয়ত। তাই মনে হয়, বিষয়প্রপঞ্চ যা-ই হোক না কেন, প্রকৃতপ্রস্তাবে আইয়ূব বখ্ত জগলুল মানুষের মাঝে এখনও বেঁচে আছেন এবং বোধ করি বেঁচে থাকবেন, সেখানে তিনি সত্যিকার অর্থেই ধ্রুবতারার মতো ধ্রুব হয়ে জ্বলবেন মানুষের মনের আকাশে। বিষয়টা তখন সার্বিক বিবেচনায় এই দাঁড়াবে যে, কেবল বলা যাবে, কেউ ভুলে তো কেউ ভুলে না।
আইয়ূব বখ্ত জগলুল একজন মানুষ ছিলেন। এই সাধারণ কথাটা বলার দরকার পড়ে না, না বললেও চলে, তবু বলতে হলো এবং বলার কারণও আছে। কারণ মানুষ জগলুলকে একটু পরখ করার দরকার আছে। এই জন্যে যে, মানুষ তাঁকে স্মরণ করছে এবং কেন করছে তা একটু বুঝার জন্যে। মানুষের দুই সত্তা। জীবসত্তা আর মানবসত্তা। জগলুলেরও এই দু’টি সত্তা ছিল, অনিবার্যভাবে কিংবা প্রকৃতিগতভাবে যেমন প্রত্যেক মানুষের থাকে, তেমনি। এই প্রত্যেক মানুষের একত্র সমাহারকে বলে সমাজ এবং প্রত্যেকের সমাহার মিলে গড়ে উঠা জনসমাজকে বলে বলে সাধারণ। জগলুল এই সাধারণেরই একজন। প্রশ্ন হলো, তিনি কি এই সাধারণের ভিড়ে মিশে গিয়ে সাধারণের মধ্যে নিজের সত্তাকে, অর্থাৎ ব্যক্তি আইয়ূব বখত জগলুকে হারিয়ে ফেলে নিচিহ্ন হয়ে গিয়েছেন, না কি কোটিতে গোটিকের মতো অবিস্মরণীয় কেউ হতে পেরেছেন, ব্যতিক্রম কেউ কিংবা যাকে বলে অসাধারণ কেউ ? তিনি অবশ্যই অবিস্মরণীয়দের একজন হতে পেরেছেন। পেরেছেন এবং তিনি যে নিচিহ্ন হন নি তার প্রমাণ. ‘কেউ ভুলে তো কেউ ভুলে না’র মধ্যে তিনি ‘ভুলে না’র পর্যায়ভুক্ত একজন, তাঁকে নিয়ে লোকেরা তাঁর জয়ন্তীতে পত্রিকায় স্মরণ সংখ্যার আয়োজন করেন। একজন আর একজনকে লিখতে তাগাদা দেন, তাঁর স্মৃতিতর্পণ করেন।
কথা হচ্ছিল মানুষের দুই সত্তা নিয়ে। এই সত্তাদ্বয় সম্পর্কে বলা হচ্ছে, ‘[…] বরং মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়েও চলা যায়; কিন্তু প্রাণিত্বকে বাদ দিয়ে চলা কঠিন। তাই মানুষকে প্রাণিত্বের সাধনাই করতে হচ্ছে বেশী। রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতি প্রাণিত্বের সাধনারই নিদর্শন, আর তারি ফলে মানুষের জীবনধারণ আর আদিম জৈব ব্যাপার না থেকে ধীরে ধীরে মানবিক ব্যাপার হয়ে ওঠে। ‘মানবিক’ হওয়ার অর্থ জৈব ব্যাপারটাই মনুষ্যত্বের পর্য্যায়ে উন্নীত হওয়া নয়, মানুষের বুদ্ধি ও কল্পনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়াÑ মানবোচিত হওয়া।’ মোতাহের হোসেন চৌধুরী, সংস্কৃতি কথা, নওরোজ কিতাবিস্তান, ৪র্থ সংস্করণ : জানুয়ারি ১৯৯৮, পৃষ্ঠা : ১১৬)। মানুষ সম্পর্কে একজন মহৎ মানুষের উদ্ধৃতি উৎকলনের পর আমি কেবল বলতে চাই মানুষ হিসেবে জগলুল যতোটুকু মানবোচিত হতে পেরেছিলেন, মানবোচিত হওয়ার সুবাদে মানুষের মনের মধ্যে যতোটুকু জায়গা পাওয়া যায়, মানুষের স্মৃতির জগতে ততোটুকু জায়গাই জগলুল কতৃক অধিকৃত হয়েছে, তার কমও নয় বেশিও নয়। তাঁর এই দখলদারিত্বের প্রকাশই ঘটছে যখন এই সমাজেরই কেউ একজন তাঁকে নিয়ে কীছু একটা লিখতে মনস্থ করেন পত্রিকার পাতায় কিংবা স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে মনোনিবেশ করেন। আর একজন মানুষের পক্ষে এই সম্মানজনক অবস্থানে নিজেকে উন্নীত করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তার জন্য মানবোচিত হওয়ার কিংবা মানবিকতার সাধনায় উত্তীর্ণ হতে পারা মানুষ হওয়া চাই। সকল মানুষের পক্ষে এই সাধনায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। কালেভদ্রে কেউ কেউ তা পারেন। সুনামগঞ্জের রাজনীতিক সমাজবাস্তবতার পরিসরে জগলুল তা পেরেছিলেন। এখানেই মানুষ হিসেবে তাঁর চিৎপ্রকর্ষতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন। তাঁকে মাপার গজকাঠি এটাই, অন্য কীছু নয়।
মানবোচিত হওয়া কিংবা মানবিকতার কিংবা মানবত্বের এই সাধনপথ জনে জনে ভিন্ন। আলোচনার স্বার্থে রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধুর সাধনপথের উদাহরণ টানা যায়। দু’জনই চূড়ান্ত সার্থক সাধক। কিন্তু, জানা কথা, দু’জনার পথ এক নয়, ভিন্ন। একজনের পথ সাহিত্য, অন্যজনের পথ রাজনীতি। যে দু’জনের উদাহরণ টানলাম, সে-তুলনায় বড় মাপের না হলেও জগলুলের সাধনাটি আমাদের সুনামগঞ্জের পরিসরে একবারে খাটো করে দেখার কোনও অবকাশ নেই। তিনি কবি ছিলেন না, তিনি রাজনীতিক ছিলেন এবং যে-রাজনীতি করতেন, সেটা ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি, এই রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলতে গেলে সেই বাল্যকাল থেকেই। তার একটি ঐতিহাসক কারণ আছে।
কারণটি নিয়ে একটু বলা দরকার। তা না হলে জগলুল কেন মানবোচিত রাজনীতিবিদ জগলুল হয়ে উঠেন তার কোনও হদিশ পাওয়া যাবে না। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে সুনামগঞ্জ আসেন স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান এবং তখন আওয়ামী লীগের যে-মহকুমা কমিটি গঠিত হয় তাতে ছিলেন জগলুলের পিতা হোসেন বখ্ত। কল্লোল তালুকদার লিখেছেন, ‘সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর প্রথম সফরকালে ডাকবাংলার সামনে তোলা তাঁর সঙ্গে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের একটি গ্রুপ ছবি সংরক্ষিত আছে হাসন রাজার স্মৃতি জাদুঘরে। ওই ছবিতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আনোয়ার রাজা চৌধুরী, আবদুস সামাদ আজাদ, কমরেড বরুণ রায়, আবদুল ওদুদ পাঠানকে দেখা যায়। ছবিটি থেকে সেদিনের সভায় যুবনেতা হোসেন বখ্তের উপস্থিতি সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনিও প্রথম কমিটিতে ছিলেন বলে শুনতে পাওয়া যায়। মহকুমা আওয়ামী লীগ কমিটিতে আবদুল হাই, হোসেন বখ্ত ও গুলজার আহমদের উপস্থিতির বিষয়টি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। একটু লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়, সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটিতে বামপন্থিগণের ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি।’ (কল্লোল তালুকদার, সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও তৎকালীন রাজনীতি, নাগরী : আগস্ট ২০২০, পৃষ্ঠা : যথাক্রমে ১২৭, ১৬২ ও ১৬৩-১৬৪)। আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে হোসেন বখত যে সাম্যবাদী রাজনীতিতে দীক্ষিত ছিলেন তার ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়, শ্রীতালুকদারের উদ্ধৃতির ভেতরে ‘বামপন্থিগণের উজ্জ্বল উপস্থিতি’র তথ্যবয়ার্ণনা উপস্থাপিত হওয়ায়। এর পর জগলুল কেন সহজেই মানবোচিত হয়ে উঠার সাধনায় উত্তীর্ণ হতে পারেন, সে-সম্পর্কে আর কীছু বলার থাকে বলে আমার মনে হয় না। কারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করার উত্তরাধিকার তাঁর রক্তেই নিহিত ছিল, জগলুলের ক্ষেত্রে তার কোনও ব্যত্যয় ঘটে নি।
জগলুলের রাজনীতিটা কেমন ছিল, একটু খতিয়ে দেখা যাক। একজন বলেছেন, ‘রাজনীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে মোজাফফর আহমদ বলেছেন, “বলার অপেক্ষা রাখে নাÑ রাজনীতি কোন পেশা নয়, রাজনীতি কোন ব্যবসা নয়। রাজনীতি একটা ব্রত। রাজনীতির মূল লক্ষ্য দেশপ্রেম, জনসেবা।” এ অবশ্য আদর্শ রাজনীতির সংজ্ঞা, সেভাবেই উপস্থিত করা হয়েছে।’ (সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি, জাগৃতি প্রকাশনী, দ্বিতীয় সংস্করণ : ফেব্রুয়ারি ২০০৬, পৃষ্ঠা : ২২ ॥ প্রবন্ধ : সাতচল্লিশের পর)। রাজনীতির এই সংজ্ঞার গজকাঠিতে এই দেশের রাজনীতিবিদদের মাপতে গেলে গোটিকয় রাজনীতিবিদকে রাজনীতিবিদ বলা যাবে, বাকিদেরকে অনায়সে রাজনীতির ব্যবসায়ী বলে অভিহিত করা যাবে, কিবা তাঁরা হয় তো হয়ে উঠবেন রাজাকারজীবিতার আদর্শিক ধারক, অর্থাৎ চূড়ান্ত অর্থে কোনও না কোনওভাবে ঔপনিবেশিকতার সেবাদাস। কিন্তু যে-ভাবেই কিংবা যে গজকাঠিতেই রাজনীতিবিদ জগলুলকে মাপা হোক না কেন, তাঁকে বোধ করি রাজনীতিকে যারা আত্মসস্বার্থে ব্যবহার করে দেশটাকে একটা লুটপাটের রাজত্ব বানিয়ে ফেলেন তাঁদের পঙক্তিভুক্ত করা যাবে না।
জগলুল চলে গেছেন, কিন্তু লোকে তাঁকে ভুলে নি, মনে রেখেছে এবং তাঁর স্মৃতিতর্পণে এখনও নিমগ্ন আছে, কী জন্য, এমন প্রশ্ন সঙ্গত কারণেই জাগ্রত হয়। পৃথিবীতে প্রতিনিয়িত হাজারেবিজারে মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, চিরদিনের জন্যে, পত্রিকার পাতায় কারও কারও মৃত্যুতে শোকসংবাদ ছাপা হতে দেখি, এ পর্যন্তই, তারপর তাঁদের শরীরের জাগতিক অস্তিত্ব বিলীনের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে তাঁদের স্মৃতিও। কেউ তাদের মনে রাখছে না, এমন কি বোধ করি তাদের সন্তানেরা বা আপন বন্ধুস্বজনের স্মৃতির নিভৃত জগতেও তাদের স্মৃতির কোনও অবশেষ আর অবশিষ্ট থাকছে না। জগলুলের রাজনীতি জগলুলকে বিস্মতির অতলে তলিয়ে যাওয়ার বিপদ থেকে রক্ষা করেছে।