‘জনতার মুক্তি সংগ্রামের অগ্রভাগে ছিলেন’

স্টাফ রিপোর্টার
রাজনৈতিক ও সংস্কৃতি আন্দোলনের কিংবদন্তি পুরুষ, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত কমরেড প্রসূন কান্তি রায় (বরুণ রায়) এর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমরেড বরুণ রায় জন্মশতবর্ষ উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কমরেড বরুণ রায়ের সহধর্মিনী শীলা রায়।
জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ধূর্জটি কুমার বসু, শিক্ষাবিদপরিমল কান্তি দে, আইনজীবী ও কলামিষ্ট হোসেন তওফিক চৌধুরী, সমাজসেবক রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, সমাজসেবক নির্মল ভট্টাচার্য, লেখক সুখেন্দু সেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, খেলাঘর আসরের সভাপতি বিজন সেন রায়, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রুহুল তুহিন, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য, সাবেক ভিপি অ্যাড. বুরহান উদ্দিন দোলন, কমরেড বরুণ রায় জন্মশতবর্ষ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাড. এনাম আহমেদ, যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আসাদ মনি, সমাজসেবক স্বপন কুমার দাস প্রমুখ।
স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, সৎ, ত্যাগী ও নির্লোভ রাজনীতি করেছেন। জীবনের সুন্দরতম দিনগুলো কারাগারে ও আত্মগোপনে কাটিয়েছেন। সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতায় তিনি তারুণ্যের মতো করেই দেখেছেন। বার্ধক্যের দিনগুলোতেও তারুণ্যের উদ্যমে সচল ও গতিশীল থাকতেন। এজন্য যুবক-তরুণেরা তাঁকে শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় সব সময় সিক্ত করেছে। প্রতিটি কালকে প্রত্যক্ষ করেছেন প্রাজ্ঞ রাজনীতিকের সচেতন দৃষ্টি দিয়ে। বক্তারা বলেন, তেভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ভাসান-পানি আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ সহ কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী জনতার মুক্তির সংগ্রামের প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। বরুণ রায়ের বাবা করুণাসিন্ধু রায় ছিলেন স্বদেশি আন্দোলনের নেতা। যদিও জমিদারির মতো ছোটোখাটো মিরাশদারিও ছিল তাদের, তবুও ব্রিটিশ ও জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধেই তার বাবা ছিলেন নির্ভীক সংগ্রামী। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ লালন করেই জীবন কাটিয়েছেন বরুণ রায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশ ও মানুষের পক্ষের সব আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রভাগের যোদ্ধা।