জন্মশতবর্ষ স্মরণ, আব্দুস সামাদ আজাদ (১৯২২-২০০৫)

মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতি যখন মুজিববর্ষ পালন করছে সেই সময়ে প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের জন্মশতবর্ষ নিশ্চয়ই আনন্দের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর আব্দুস সামাদ আজাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নাম। ব্রিটিশ ভারতে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পাকিস্তান আমলে একজন সংগ্রামী রাজনৈতিক নেতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে এর অভ্যুদয় ও রূপান্তরের এক অন্যতম কান্ডারি। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রনয়ন ও সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনে অসামান্য অবদান রাখেন এই ক্ষণজন্মা পুরুষ। তৃণমূল থেকে উঠে গিয়ে মেধা ও বিচক্ষণতা দিয়ে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এক সফল জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ । আপাদমস্তক রাজনীতিক সামাদ আজাদ সারাজীবন প্রগতিশীল ধ্যান ধারণা লালন করেছেন। উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদ ও কূপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিশাল কর্মপরিধি তাঁকে পরিণত করে এক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে।
১৯২২ সালের ১৫ জানুয়ারি তৎকারীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার জগন্নাথপুর থানার ভুরাখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুস সামাদ। তাঁর পিতার নাম শরিয়ত উল্লা ও মা সুরজান বেগম। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোটো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি আব্দুস সামাদ নামেই পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি নামের সঙ্গে আজাদ সংযুক্ত করেন।
১৯৪৩ সালে সুনামগঞ্জ জুবিলী হাইস্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উক্তীর্ণ হন। স্কুল ছাত্র অবস্থাতেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। প্রথমে সুনামগঞ্জ ও পরে সিলেটে তিনি এই সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৪৫ সালে পন্ডিত জওহারলাল নেহেরুর সুনামগঞ্জের জনসভা সফলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৬ সালে তিনি সিলেট জেলা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। সে সময় ‘ আসাম আইন অমান্য আন্দোলনে ’ তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। ১৯৪৭ সালে গণভোটে পাকিস্তানের পক্ষে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৮ সালে আবদুস সামাদ আজাদ সিলেট এমসি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু সরকারবিরোধী রাজনীতির কারণে এম এ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিতে পারেননি। মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন বিলুপ্ত হয়ে গেলে আবদুস সামাদ আজাদ নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৪৯-৫০ সালে তিনি এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ১৯৫১ সালে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের তিনি ছিলেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
আব্দুস সামাদ আজাদ একজন ভাষা সংগ্রামী। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের যোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুর রব নিশতার সিলেট সফরে আসলে তিনি একটি ছাত্র প্রতিনিধিদল নিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। বাংলা ভাষার দাবিতে সিলেটে সংগঠিত আন্দোলন, সংগ্রামে তাঁর ছিল অগ্রণী ভূমিকা। পরে ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তিনি সম্পৃক্ত হন। প্রথমে সিলেট পরে ঢাকায় এই আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দশজনি মিছিল করার প্রস্তাবকও তিনি। ঐ দিন তিনি গ্রেপ্তার হন ও কারাবরণ করেন।
১৯৫২ সালে নতুন রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালে গণতন্ত্রী দলের প্রার্থী হিসেবে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে তিনি সুনামগঞ্জ দক্ষিণ (দিরাই- শাল্লা) আসন থেকে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের পর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকারের মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় পাকিস্তান সরকার প্রাদেশিক মন্ত্রীসভাকে বরখাস্ত কওে ৯২ (ক) ধারা জারির মাধ্যমে পূর্ববাংলায় গর্ভণর শাসন প্রবর্তন করেন। অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আব্দুস সামাদও তখন গ্রেপ্তার হন। আওয়ামী মুসলিম লীগ ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে। এ সময় আব্দুস সামাদ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনের পর মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ন্যাপে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে ন্যাপের সহ-সম্পাদক ও দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পুর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠিত হলে তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৮-৬৯ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান এনডিএফের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের পর আব্দুস সামাদ আজাদের সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু এক সময় গ্রেপ্তার হন। প্রায় চার বছর জেলে থাকার পর ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে তিনি আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন এবং বৃহত্তর সিলেট আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে সিলেট ১০ ( দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা) আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া আপাদমস্তক এই রাজনীতিক বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী পরিষদ গঠনে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারে মন্ত্রী পরিষদের উপদেষ্টা এবং ভ্রাম্যমাণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি আব্দুস সামাদ নামেই পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি নামের সঙ্গে আজাদ সংযুক্ত করেন।
১৯৭১ সালের ১৩-১৬ মে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জোড়ালো ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর আব্দুস সামাদ আজাদ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় তাঁকে পুনরায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির যাত্রা শুরু হয়। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারে কৃষি,সমবায় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট ২ (দিরাই-শাল্লা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর আব্দুস সামাদ আজাদকে এক সপ্তাহ গৃহবন্দি করে রাখা হয়। পরে ২২ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় চার নেতার সঙ্গে কারাগারে রাখা হয়। ১৯৭৫ সালের ৩ রা নভেম্বর জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত একই সেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে বন্দি ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় সামরিক আদালতে আব্দুস সামাদ আজাদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। চার বছর কারাভোগের পর ১৯৭৯ সালে তিনি মুক্তিলাভ করেন। মুক্তিলাভের পর সেই সংকটময় সময়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে আত্মনিয়োগ করেন। দলে আত্মকলহ, চরম দ্বন্ধ ও ভাঙন দেখা দিলে তিনি দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতেও তাঁর রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলকে সংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে আন্দোলন,সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে তিনি পরাজিত হন। স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে তিনি সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। এসময় সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনে তিনি জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ একুশ বছর পর সরকার গঠন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সর্বশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর শূন্যতার সৃস্টি করে। দল,মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী,পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর হৃদতা। একজন সদালাপী,কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রান্ত থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সকল পর্যায়ে তাঁর ছিল ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। রাজনীতির ধ্যান জ্ঞান এই জননেতা গভীর রাত পর্যন্ত কর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। বৃদ্ধ বয়সেও অসুস্থ শরীর নিয়ে সাংগঠনিক প্রয়োজন আর সামাজিক অনুষ্ঠানে ছুটে বেড়াতেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল। শুধু নিজ দলের কর্মী নয় ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গেও সদ্ভাব রাখতেন। প্রয়োজনে বাড়িয়ে দিতেন সাহায্যের হাত। অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ এই বর্ষিয়ান নেতা ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল মানুষ। আজন্ম গণতন্ত্রী, দক্ষ সংগঠক, সংগ্রামী এই জননেতা প্রকৃতঅর্থে ছিলেন রাজনীতির এক মহান শিক্ষক। বৃহত্তর সিলেটের রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন সর্বজন গ্রহণযোগ্য অভিভাবক। দেশ ও রাজনীতির প্রয়োজনেই আব্দুস সামাদ আজাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাঁর জন্মশতবর্ষ উদযাপন এ জন্য হতে পারে বিরাট উপলক্ষ। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে অনেক বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা নীতি, আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার রাজনীতি করেছেন। কিন্তু আব্দুস সামাদ আজাদ আজীবন জনতার রাজনীতিই করে গেছেন। লোভ, লালসার উর্ধ্বে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে ছিলেন নিবেদিত। মেধা ও প্রজ্ঞায় রাজনীতির শিল্পীত পরিচর্যায় তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ। সভা-সমিতিতে ,বক্তব্য-বিবৃতিতে থাকতেন সংযত ও মার্জিত। কর্মী অন্তঃপ্রাণ এই মানুষটি ছিলেন রাজনীতির এক সহজিয়া সাধক। মাটি থেকে মহিরুহ হয়ে ওঠা আদর্শে অবিচল এক সংগ্রামী জননেতা। পরিণত বয়সে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েই চিরপ্রস্থান নিয়েছেন বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদ। জন্মশতবর্ষে মহান এ নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। পরম করুণাময় যেন তাঁকে চিরপ্রশান্তিতে রাখেন।
লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী।