জমেনি লন্ডনিদের ভোটের প্রচারণা

বিশেষ প্রতিনিধি ও জগন্নাথপুর অফিস
নির্বাচিত পৌর মেয়র মাত্র ২ মাস ক্ষমতায় থাকবেন। এ কারণে সুনামগঞ্জের যুক্তরাজ্য বা লন্ডন প্রবাসীদের পৌর শহর জগন্নাথপুরের পৌরসভার উপ-নির্বাচনের প্রচারণা জমে ওঠেনি। আসেন নি প্রবাসীরাও। প্রতিদ্বন্দ্বি চার মেয়র প্রার্থীর তিনজনেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। নির্বাচন ঘোষণার পর তাঁরা দেশে ফিরলেও, মেয়াদকাল কম থাকায় অনাগ্রহ এবং করোনার ভয়েও আসেন নি তাদের স্বজনরা।
সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্যে প্রচারণায় বর্ণাঢ্য হয় জগন্নাথপুর পৌরসভার নির্বাচন। প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের বেশিরভাগ প্রবাসী হওয়ায় এই পৌরসভার নির্বাচনী আমেজই হয় আলাদা। কিন্তু এবার সেই আমেজ নেই। নেই প্রচারণায় বর্ণাঢ্যতাও, দল বেধে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন না প্রবাসীরা। গত ১১ জানুয়ারী এই পৌরসভার মেয়র আবদুল মনাফ মৃত্যুবরণ মৃত্যুবরণ করলে পৌরসভার উপ-নির্বাচন ঘোষণা হয়। তফসিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারী মনোয়ন পত্র দাখিল করে ভোটযুদ্ধে নামেন চার প্রার্থী। এই চার প্রার্থীর ৩ জনেই যুক্তরাজ্য থেকে এসে মনোয়ন জমা দেন। ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন সামনে রেখে প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে করোনা পরিস্থিতির কারণে ২১ মার্চ ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। প্রবাসী প্রার্থীদের কেউ কেউ পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। প্রায় ৬ মাস পর আবার ২১ সেপ্টেম্বর পৌরসভার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। যুক্তরাজ্য থেকে তড়িগড়ি করে প্রার্থীরা বাড়ি ফিরলেও নির্বাচিত হয়ে কম সময় মেয়র হিসাবে ক্ষমতায় থাকা এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী প্রার্থীদের সঙ্গী হন নি স্বজন শুভানুধ্যায়ীরা। এ কারণে এই পৌরসভার নির্বাচনে চিরাচরিত যে আমেজ থাকে, সেই আমেজ নেই বললেই চলে। ভোটারদেরও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ কম।
জগন্নাথপুর পৌরসভার জগন্নাথপুর গ্রামের ভোটার গণমাধ্যম কর্মী অরূপ সরকার বললেন, এই পৌরসভার নির্বাচন মানেই চায়ের দোকানে আলোচনার ঝড়, প্রবাসীরা বসলেন- খরচ করলেন, মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে দান খয়রাত করলেন, স্থানীয় কর্মীরা কয়েকদিন আনন্দ-উল্লাস করে সময় কাটালেন, এবার তাতে ভাটা পড়েছে। প্রবাসীরা আসেন নি, স্থানীয়দেরও ভোট নিয়ে আগ্রহ একেবারেই কম।
একই ধরণের মন্তব্য করলেন পৌরসভার ভোটার বকুল গোপ ও সাইফুল ইসলাম।
প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া (প্রতীক নৌকা) বললেন, ডিসেম্বরে যেহেতু পৌরসভার মেয়াদ শেষ, আমার ধারণার মধ্যে ছিল নির্বাচন হয়তো একবারেই ডিসেম্বরের পরে হবে। পায়ে অপারেশন করিয়েছি, হাঁটতে সমস্যা হয়, এরপরও ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজু আহমেদ (ধানের শীষ) বললেন, করোনার কারণে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় লন্ডনে চলে যাই, হঠাৎ এভাবে মেয়াদ শেষ হবার দুই মাসে আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে চিন্তা করি নি। লন্ডন থেকে তাড়াহুড়ো করে এসেছি, চেষ্টা করছি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রয়াত মেয়রপুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল হোসেন ওরফে সেলিম (জগ) এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবিবুল বারী ওরফে আয়হান (মোবাইল ফোন)ও বললেন, এতো কম সময়ের জন্য নির্বাচন হবে, এটি চিন্তা করেন নি তাঁরা।
প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সকলেই বললেন, করোনা পরিস্থিতি এবং কম সময় মেয়াদের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে তাদের আত্মীয়, কর্মী-সমর্থকরা এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হন নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বললেন, এই পৌরসভায় আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে ভোট হচ্ছে। অল্প সময়ের জন্য অর্থাৎ ভোটের আগে আরেকটি ভোটের মতো অবস্থা। এজন্য অন্যান্য সময়ের মতো জমে নি ভোটের প্রচারণা।
প্রসঙ্গত. জগন্নাথপুর পৌরসভায় ২৮ হাজার ৮৭৯ ভোটার পৌরসভার মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে আগামী ১০ অক্টোবর ভোট প্রদান করবেন।