জমে উঠেছে পূজার বাজার

পুলক রাজ
আর মাত্র একদিন পর সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে শেষ সময়ে জমে উঠেছে পূজার বাজার। কেনাকাটার জন্য পোষাক ও কসমেটিক্সের দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এমনিতে বিকাল থেকে মার্কেটে ভিড় জমে কিন্তু ছুটির দিন হওয়ায় দিন থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা সমাগম ছিল বাজারে।
দুর্গাপূজার নতুন কাপড় ক্রয় করতে মার্কেট ও ফুটপাতসহ শহরের বিভিন্ন শপিং সেন্টারে লেগেছে কেনাকাটার ধুম। জুতো ও কসমেটিকসের দোকানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয়। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানীরা। ষষ্ঠী পর্যন্ত ক্রেতা সমাগম থাকবে বলেই মনে করছেন বিক্রেতারা। পৌর শহরের দোজা শপিং সেন্টার, নেজা প্লাজা, লন্ডন প্লাজা, সুরমা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন মার্কেটসহ অন্যান্য শপিং সেন্টারগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, এবারের পূজার বাজারে মেয়েদের থ্রী-পিস, কামিজ- সেলোয়ার, স্কার্ট-টপস, লেহেঙ্গা, বারবিকিউ শাড়ি, কাতান শাড়ি, সিল্ক শাড়ি। ছেলেদের ফতোয়া, পাঞ্জাবি-পায়জামা, ফুল-শার্ট, ফুল-প্যান্ট, টি-শার্ট ও জিন্স এবং বাচ্চাদের নানা রঙ ও ডিজাইনের পোশাকের সমাহার রয়েছে বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে।
শহরের ডিএস রোডের মৌ ফ্যাশনের পরিচালক আব্দুল হালিম বললেন, আমরা এবার মহিলাদের সেল্পি শাড়ী, ফেন্সী কাতান, ডিজিটাল প্রিন্ট, বাচ্চাদের টপ, রাউন্ড ড্রেস, সামু সিল্ক থ্রি-পিস বেশি বিক্রি করছি। দেড় বছর খারাপ গেছে, কয়েকদিন হয় বেছা-কেনা শুরু হয়েছে।
সুরমা মার্কেটের প্লাস পয়েন্ট’র মালিক সজীব আহমদ বলেন, এবারের পুজোতে ছেলেদের জন্য নতুন ডিজাইনের থ্রী-কোয়ার্টার হাতা টি-শার্ট আসছে। করোনার জন্য গত বছর কম বিক্রি হয়েছিলো কিন্তু এবার আমি ভালোই বিক্রি করছি। ক্রেতা প্রকাশ সরকার বলেন, পুজোর বাজারে এসে খুব উৎসব উৎসব মনে হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের জন্য গত বছর আমরা পুজোতে আনন্দ করতে পরি নি। তিনি বলেন, টি-শার্ট, শার্ট, পাঞ্জাবী, পায়জামা কিনেছি- বাকি রয়েছে প্যান্ট কেনা। মার্কেট ঘুরছি, নতুন ডিজাইনের ভালো মানের প্যান্ট কিনতে চাচ্ছি।
দীপ ক্লথ স্টোর এর মালিক সৌরদীপ বলেন, আমাদের দোকানে বিভিন্ন ধরনের থানের কাপর পাওয়া যায়। পুজোর আগে অনেকেই নতুন ডিজাইনে ড্রেস বানান। পুজোর বাজার ভালোই চলছে।
নেজা প্লাজা কির্ডস স্টাইল এর ম্যানেজার মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের দোকানে ছোটদের পোশাক পাওয়া যায়। বাবা-মা নিজে এসে তাদের বাচ্চাদের জন্য পুজোর কেনাকাটা করছেন। সকাল দুপুর বাজার মন্দা থাকে তবে সন্ধ্যার পর ভালোই ক্রেতাদের সমাগম থাকে।
ক্রেতা সুমি পাল বলেন, আমি, আমার বাচ্চার, শ^াশুরী ও স্বামীর জন্য পুজোর কেনাকাটা করতে আসছি। খুব ভালো লাগছে মার্কেটে এসে। গত বছর দুর্গাপূজায় আনন্দ কম ছিলো করোনা ভাইরাসের জন্য। এবছর উৎসব মুখর পরিবেশে উৎসব উদযাপন করবো।
নেজা প্লাজা রোহন ডিপার্টমেন্ট স্টোর এর মালিক রানা পাল বলেন, আমার দোকানে সারারা থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, ভার্বিকিউ শাড়ি, বাচ্চাদের কাপড় পাওয়া যায়। সন্ধ্যার পর কাস্টমারের আনা-গোনায় ভলোই লাগে।
ক্রেতা তুলশী চৌধুরী বলেন, কেনাকাটায় কোন কিছু বাদ দিবো না। সব কিনবো নতুন নতুন। আমি ও আমার স্বামীর জন্য জুতো কিনতে এসেছি।
প্রিন্স সু স্টোর এর মালিক নূরে আলম বলেন, আমাদের জুতার দোকানে এপেক্স, লট্টো, চায়না, বাটা, মিলন, গ্রামীণসহ অন্যান্য ব্রান্ডের উন্নত মানের ভালো জুতো পাওয়া যায়। গত বছর পুজোর বাজারের চেয়ে এবছর মোটামুটি ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে।
লন্ডন প্লাজা বিশ্ব রঙ এর ম্যানেজার পানু দেব বলেন, মোটামুটি ভালোই চলছে। আমাদের সুনামগঞ্জ শাখায় বিশ্বরঙের শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবীসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের আইটেমসহ গহনাও পাওয়া যায়।
রোকেয়া লেডিস কর্ণার’র মালিক মাজহারুল ইসলাম বলেন, পুজোর বাজারে মার্কেটগুলোত মানুষ কেনাকাটা করার জন্য আসা যাওয়া করছেন। আমাদের দোকান থেকে মেয়েদের সব ধরনের রূপচর্চার জিনিস-পত্র পাওয়া যায়।
ক্রেতা শিউলী দাশ বলেন, আমি পুজোতে থ্রি-পিস ও শাড়ি কিনেছি। কিছু কসমেটিক্স কেনাকাটার বাকি রয়েছে।
ক্রেতা জয়া পাল বলেন, হাতের জন্য মেহেদি, হাতের বালা, কানের দোল, গলার মালা, ফ্রেস ওয়াশ, আইলেইনার, চোখের কাজল, টিপ, লিপস্টিকসহ অনেক কিছু কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছি।