জলাশয় থেকে বাজারে আসছে না দেশি মাছ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আছে ছোটবড় প্রায় শতাধিক জলাশয়। যেসব জলাশয় বা ‘বিল’ থেকে উপজেলা, জেলা কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায় দেশীয় জাতের মাছ। সেচ দিয়ে অথবা জাল দিয়ে জলাশয় থেকে সংগ্রহকৃত সেসব মাছ ইদানিং আর স্থানীয় বাজার বা বিভাগীয় পর্যায়ের মাছের বাজারগুলোতে যাচ্ছে না। ফলে, যেমনটা মাছের আকালে পড়েছেন স্থানীয় শহরের মৎস্য ভোক্তারা তেমনি দেশির মাছের আকালে পড়েছেন হাওরপাড়ের মানুষেরাও। বাজারের মাছ রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য জায়গায় পাঠানোর কারণ হিসেবে দামের তারতম্যের কথা জানান তারা।
মৎস্য শ্রমিকরা জানান, আমরা বিলে মাছ ধরি। বিল যারা ইজারা নেন তারাই মাছ ট্রাকে করে বাজারে নিয়ে যান। এই দুই বছর ধরে ট্রাকে করে মাছ পাঠানোর কোনো উপায় নেই। বিলে তেমন কোনো মাছ হয় না। মাছের খুবই আকাল। জলাশয়ে মাছ কম হওয়ায় বাজারেও মাছ কম পড়েছে। আর স্থানীয় বাজারগুলোতে মাছের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় বিক্রেতারা বেশি দামের আশায় মাছ ঢাকায় পাঠাচ্ছেন।
মাছ ক্রেতা এম এ কাশেম বলেন, বাজারে দেশি মাছ তো পাওয়াই যায় না। এর কারণ হচ্ছে বিল বা জলাশয় থেকে যেসম মাছ বাজারে আসছে সেসব মাছেরও দাম প্রচুর। দেশি মাছ এখন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আর যেসব মাছ জলাশয়ে ধরা পড়ছে সেসব মাছও চলে যাচ্ছে শহরে।
মাছ বিক্রেতা সিরাজুর রহমান সিরাজ বলেন, আমরা নিরুপায়। মযেসব টাকা দিয়ে বিল ইজারা আনি সেই টাকাও ঠিক মতো উঠাতে পারি না। যা-ই পাই তা শহরে পাঠালে কিছু বেশি টাকা পাওয়া যায়। তাই শহরে মাছ পাঠাই আমরা।