জামালগঞ্জে অবৈধ নার্সিং প্রতিষ্ঠান/ এদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হোক

দেশে প্রশিক্ষিত নার্সের সংকট এখন প্রচুর। ক্রমবর্ধমান সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বহু নার্সের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সব জায়গাতেই নার্সের অভাব চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নার্সের সংকট সবচাইতে বেশি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্সের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি কর্মরত নার্সদের উপর চাপ পড়ে মাত্রাতিরিক্ত। একসময় নার্সিং পড়তে অনীহা দেখাতেন আমাদের মেয়েরা। তাদের পরিবারবর্গের কাছেও এই বিষয়টি অপছন্দনীয় ছিলো। ফলে প্রচুর সুযোগ থাকার পরেও শিক্ষিত তরুণীরা নার্সিং পড়তে নিরুৎসাহী থাকতেন। অবস্থা এখন অনেক বদলেছে। সম্মানজনক এই সেবাধর্মী পেশার প্রতি এখন প্রচুর আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দলে দলে তরুণীরা এই পেশায় আসতে চাচ্ছেন। কিন্তু নার্সিং পড়াশোনার জন্য সহজলভ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্বেও এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ করে নিতে পারছেন না। এই সুযোগে বিভিন্ন জায়গায় কিছু ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান নার্সিং শিখানোর নামে প্রতারণামূলক কর্মকা- পরিচালনা করছে বলে জানা যায়। এরকম একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি জামালগঞ্জ উপজেলায় তৎপরতা শুরু করেছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। ‘প্রিয়জন কেয়ার ট্রেনিং ইনস্টিিিটউট অব জামালগঞ্জ’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি নার্সিং বিষয়ে ৬ মাস মেয়াদী একটি প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ব্যাপারে প্রচারণা চালাচ্ছে। এরা ইতোমধ্যে ১৯ জন ছাত্রী ভর্তি করে ফেলেছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে এরা ভর্তি ফিস ৫ হাজার টাকা ও সেশন ফিস ৫০ হাজার টাকা মোট ৫৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৯টি কোর্সে প্রশিক্ষণ দানের কথা বলে আরও ছাত্রীদের ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে প্রলুব্ধ করছে। কিন্তু আসলে এরকম প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার জন্য তাদের বৈধ কোনো অনুমোদন নেই। এরা ঢাকার মিরপুরের একট নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে কাজ চালানো শুরু করে। জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেছেন, মিরপুরের নিবন্ধন নম্বর দিয়ে জামালগঞ্জে কাজ চালানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি তাদেরকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাননি। তিনিও তাদেরকে যথাযথ অনুমতি সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। স্পষ্টতই বুঝা যায় এই প্রতিষ্ঠানটির নার্সিং প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য কোনো সরকারি অনুমতি নেই। ফলে তারা এ ধরনের কর্মকা- পরিচালনা করতে পারে না। অনুমোদনহীনভাবে একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
সবচাইতে উদ্বেগের বিষয় হলো, এরা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকায় চাকুরি দেয়ার আশ্বাস প্রদান করে প্রলুব্ধ করছে। এই ধরনের মিথ্যা ও প্রলোভনসর্বস্ব প্রচারণা থেকে প্রতীয়মান হয় প্রতিষ্ঠানটি ভুঁইফোঁড় ও প্রতারণামূলক। এই ধরনের প্রচারে আস্থা স্থাপন করে বহু নিরীহ মানুষ ঠকবেন। সংগত কারণেই জামালগঞ্জের সাধারণ মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি তোলেছেন। সাধারণ মানুষের এমন উদ্বেগ স্বাভাবিক। কারণ নানাভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর বহু প্রতিষ্ঠান আমাদের চারপাশে বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি। এরা আকর্ষণীয় কথার মারপ্যাঁচে ফেলে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে। ঠকার পর মানুষ বুঝতে পারে তারা প্রতারকের খপ্পরে পড়েছিলেন। সুতরাং আগে থেকেই এমনসব প্রতিষ্ঠান থেকে সাবধান থাকা বাঞ্ছনীয়। জামালগঞ্জের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের উচিৎ হবে এই তথাকথিত নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটিকে আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। তারা যদি বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারে তাহলে তারা কাজ করার সুযোগ পাবে। বৈধ কাগজ সংগ্রহের আগে পর্যন্ত কোনো ছাত্রী যাতে এরা ভর্তি না করতে পারে এবং ইতোমধ্যে যাদের নিকট থেকে টাকা সংগ্রহ করেছে সেই টাকা ফেরৎ দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে বাধ্য করতে হবে।