জামালগঞ্জে ঋণ পরিশোধে ২১৯ কৃষককে কৃষি ব্যাংকের নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার
কৃষি ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় জামালগঞ্জ উপজেলার ২১৯ জন কৃষকের উপর মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষি ব্যাংক। ইতিমধ্যে কৃষকদের আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের জন্য আরেকবার সময় দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে প্রাপ্ত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে স্থাবর অস্থাবর সম্পদ নিলাম করার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে।
ব্যাংক নোটিশ সূত্রে জানা যায়, নোটিশ প্রাপ্তদের গ্রেফতার পূর্বক সিভিল জেলে
প্রেরণ করার জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি কার্যকরের পূর্বে সর্বশেষ তারিখের মধ্যে সমস্ত টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।
জানা যায়, যাদের কাছে ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা অনেক আগে কৃষি ঋণ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ কৃষক পরবর্তীতে উত্তোলনকৃত ঋণের আর কোনো কিস্তি জমা দেন নি। এতে করে ব্যাংক তাদেরকে এরকম নোটিশ পাঠিয়েছে। তবে নোটিশ পাওয়ার পর অনেকে কিস্তি জমা দেয়ার জন্য জামালগঞ্জ কৃষি ব্যাংকে যাচ্ছেন। তাদের অনেকের কিস্তি গ্রহণ করছেন না জামালগঞ্জ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বলছেন এককালীন সম্পূর্ণ টাকা জমা দিতে হবে।
কৃষকরা বলছেন, এখন ফসল চাষাবাদের সময়। এমনিতেই ঋণ নিয়ে জমি চাষাবাদ করতে হয়। গত কয়েক বছরের লোকসানে এখন তাদের ঋণ পরিশোধ করার মতো অবস্থা নেই । ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হলে জমি বিক্রি করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, আমি ঋণের কিস্তি জমা দিতে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। কিস্তি নেয় নি তারা। আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন কি ভাবে ধান চাষ করবো। সবকিছু অন্ধকার দেখছি।
বেহেলি ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. এখলাস উদ্দিন বলেন, আমার নামে ১৪ হাজার টাকার নোটিশ এসেছে। জমি চাষ করবো নাকি জমি বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করবো এনিয়ে বিভ্রান্তির মাঝে পড়েছি। আমরা কৃষক, কৃষির উপর নির্ভরশীল। সমস্ত টাকা একসাথে পরিশোধ না করলে সম্পদ নিলাম পূর্বক সিভিল জেলে প্রেরণ করা হবে বলে নোটিশ দেয়া হয়েছে। চাষাবাদের সময়ে সমস্ত টাকা কি ভাবে পরিশোধ করবো?
একই গ্রামের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাবা ঋণ নিয়েছিলেন। বাবা নেই। সে ঋণ পরিশোধ করার জন্য নোটিশ দিয়েছে ব্যাংক।
বাবার সময়কার ঋণ পরিশোধ করেন নি কেন, এই প্রশ্নের জবাবে দেলোয়ার বলেন, প্রতিবছর ফসল করে লোকসান দিতে হয়। আরো জমি বিক্রি করেছি। ব্যাংকের কিস্তি দেবো কিভাবে? বাপ-দাদায় আমল থেকে এই পেশায়, তাই ছাড়তে পারিনি।
জামালগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার উৎপল ভট্টাচার্য্য বলেন, কৃষকরা একসাথে ঋণ পরিশোধ করে পুনরায় নতুন ঋণ নিতে পারবেন। সে সুযোগ আমরা দেবো। ২০১৩ সালের ঋণ এখনো তারা পরিশোধ করেন নি।
কিস্তি না নেওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, যাদের ঋণের পরিমাণ বেশি তাদের কোনো কিস্তি গ্রহণ করছি না। তাদের ঋণের সম্পূর্ণ টাকা একসাথে পরিশোধ করতে হবে।