জামালগঞ্জে দম্পত্তি খুন

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে চাচাতো ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন এক দম্পত্তি। রবিবার রাত সাড়ে ৮ টায় উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন, মো. আলমগীর (৩৬) ও তার স্ত্রী মোছা. মুর্শেদা বেগম (৩২)। তাদের ২ ছেলে ও ২ মেয়েসহ ৪ শিশু সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ বিপলুমা খাতুন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এই খুনের মামলার আসামী এবং অপর আসামী রাসেল মিয়ার স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, আলীপুর গ্রামের তাহের আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বাড়ির পাশের জায়গা বিক্রয় নিয়ে কিছুদিন হয় চাচাতো ভাই ঝনর মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিক্রয় করা জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানো নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে ২-৩ দিন হয় ঝগড়া বিবাদ চলছিল। এর জের ধরে রবিবার রাত সাড়ে আট টায় রাসেল মিয়া আলমগীর হোসেনের ঘরে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় আলমগীরের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম ফেরানোর চেষ্টা করলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে রাসেল মিয়া। গুরুতর আহত দুইজনকে জামালগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় পথেই তাদের মৃত্যু হয়। রাত পৌঁনে ৯ টায় জামালগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তাররা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।


গ্রামের অন্যরা জানান, বাড়ির পাশের জায়গা বিক্রি নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিল। বিবাদকৃত জায়গাটি রাসেলের বাবা ঝনর আলী একই গ্রামের শহীদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। জায়গার ক্রেতা শহীদ মিয়া ওখানে মিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই মিলে নিহত আলমগীরের ঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেবার জন্য খুঁটি বসানোর চেষ্টা করেন। আলমগীরের বাবা তাহির আলী বাধা দেওয়ায় থেমে যায় মিল স্থাপনের উদ্যোগ। এই নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের উপর ক্ষুব্ধ ছিল।
রবিবার বিকেলে নিহত আলমগীরের ছোট ছেলে ও খুনী রাসেল মিয়ার ছোট ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। রাতে রাসেল মিয়া ঘরে ফিরলে তার স্ত্রী তাকে বিষয়টি জানায়। রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আলমগীরের পরিবারকে গালাগালি করতে থাকে। আলমগীরের স্ত্রী এর প্রতিবাদ করেন। রাসেল মিয়া আলমগীর হোসেনের ঘরে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় আলমগীরের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম ফেরানোর চেষ্টা করলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে রাসেল মিয়া। প্রতিবেশীদের সহায়তায় গুরুতর আহত দু’জনকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার নিহত দম্পত্তির ময়না তদন্ত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খুন হওয়া দম্পত্তির লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাসেলের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, রাসেলসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।