জামালগঞ্জে দুইমাসেও ধান সংগ্রহ হয়নি

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে চলতি মৌসুমে কোনও কৃষকের কাছ থেকে এক কেজি আমন ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। এ অবস্থায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে শংকা। উপজেলা খাদ্য বিভাগের দাবি, খোলা বাজারের তুলনায় গুদামে দাম কম থাকায় ধান দিচ্ছেন না কৃষকরা।
উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ই নভেম্বর জামালগঞ্জ খাদ্য গুদামে ২৮ টাকা কেজি দরে কৃষকদের নিকট থেকে ২১৮ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ১৮ জানুয়ারি বুধবার পর্যন্ত এক কেজি ধান সংগ্রহ করতে পারেনি উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
উপজেলার চানপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। খোলা বাজারে ধানের মন ১৩০০ টাকায় উপরে। এজন্য খোলা বাজারে ধান বিক্রি করে দিয়েছি। খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে এটা লাগবে ওটা লাগবে, মেশিনে ধান পরীক্ষা করতে হয়। এজন্য খাদ্য গুদামে ধান দেইনি। খোলা বাজারে বিক্রি করে ধানের বেশী দাম পাচ্ছি। ধান কেটে না শুকিয়েও পাইকারের কাছে ১৩০০ টাকা থেকে ১৩২০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে পারি। সেখানে কেরিং করে ধান শুকিয়ে ব্যাংকে গিয়ে ১২৮০ দরে ধান বিক্রি করতে হয়। কোন কৃষকই খাদ্য গুদামে ধান দেয়নি।
রামপুর গ্রামের কৃষক ফজলুল হক বলেন, খাদ্য গুদামে ধানের দাম কম থাকায় দিচ্ছি না। খোলা বাজারে ধান বিক্রির কোন ঝামেলা নেই। ধান যেমন তেমন দিয়ে দেয়া যায়। পাইকাররা আগেই টাকা দিয়ে দেয় ধান কাটার দিন বস্তা দিয়ে মাট থেকেই নিয়ে যায়। অথচ গুদামে দিতে গেলে ১৩ ভাগ শুকনা হতে হয়। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ দিয়ে গুদামে নিতে হয়। এতে খরচ বেশী হয় এবং আবার দাম কম। তাই কৃষকরা খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন।
জামালগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন বলেন অ্যাপসের মাধ্যমে লটারি করে আমন ধান সংগ্রহের কথা প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ধানের দাম কিছুটা বেশী থাকায় খাদ্য গুদামে ধান দিতে কৃষকরা অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। এছাড়াও উপজেলায় ধান ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। ব্যবসায়ীর কাছে ধান বিক্রি করলে তাদর পরিবহন খরচ লাগে না আবার ভিজা ধানও বিক্রি করতে পারেন। এজন্য খাদ্য গুদামে ধান না দিয়ে খোলা বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন কৃষকরা।