জামালগঞ্জে বিলুপ্তির পথে বাঁশ বেতের শিল্প

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ উপজেলায় বাঁশ বেতের শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। অভাবের তাড়নায় করিগররা পেশা ছেড়ে অনেকে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। হাতে গোনা কিছু কারিগ অভাব অনটনের মাঝে আজও বাপ দাদার পেশা ধরে রেখেছেন। পুরুষের পাশাপাশী নারী কারিগররাও জীবিকা নির্বাহের জন্য ছেলে মেয়েদের নিয়ে অতিকষ্টে বাঁশ বেতের কাজ করে যাচ্ছেন।
এক সময় বাঁশ ও বেত শিল্প বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। বাঁশ ও বেত দিয়ে ঘরের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা হতো। আর এসব জিনিসপত্রের কদরও ছিল ভালো। পৃষ্ঠপোষকতা এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে এই শিল্প।
বর্তমান বাজারে প্লাস্টিকের পণ্য সামগ্রীর সহজলভ্যতায় এই পেশা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরই সাথে জামালগঞ্জ উপজেলায় কাশীপুর, সংবাদপুর, লালপুর, দক্ষিণ কামলাবাজ, চাঁনপুরের প্রায় শতাধিক পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন। তাদের পূর্বপুরুষদের পেশা ধরে রাখতে হিমসিম খাচ্ছে।
জানা যায়, ২ দশক আগেও উপজেলাসহ প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে ছিল বেত ও বাঁশের তৈরী সামগ্রীর কদর। কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাঁশের সামগ্রী ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণেও এই শিল্প আজ হুমকির মুখে। একসময় দোলনা, পাখা, কুলা, পাতি, পলো, চালুনসহ বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্রর কদর ছিল গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে। যে বাঁশ এক সময় ৫০ থেকে ৭০ টাকায় কিনা যেত সেই বাঁশ এখন ৩শত’ থেকে ৪শত’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে সে পরিমানে বাড়েনি বাঁশের তৈরী পণ্যের দাম।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের বাঁশবেতের কারিগর আব্দুল মান্নান বলেন, তাদের গ্রামে প্রায় ২৫টি পরিবার বাঁশ বেতের কাজ করেন। ধার-দেনা ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
এ ব্যপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন ইকবাল আল-আজাদ বলেন, একসময় বাঁশ বেতের কারিগরদের কদর ছিল। বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্রের সহজলভ্যতা ও বাঁশের দাম বাড়ার কারণে তারা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদেরকে সংগঠিত করে এ পেষাকে টিকিয়ে রাখতে সুদমুক্ত ঋণ দিতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে জোর দাবি জানাই আমি।