জামালগঞ্জে বিল খনন কাজ এখনও বাকি

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় বিল খননের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বেহেলীর বাড়ির লামা বিল ও ছয়হারা নদী খনন ছাড়া অন্য কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। উপজেলার বরাদ্দকৃত মোট ৬টি ডোবা, বিল, নদী খনন কাজের মধ্যে ৪ টির কাজ এখনও বাকি আছে। এর মধ্যে দিরাই চাতল বিলের কাজ বেশিরভাগই হয় নি। কাজের নির্ধারিত সময় ছিল ৩০ এপ্রিল ওই সময়ে কাজ শেষ হয় নি। ১৫ মে পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ালেও এই সময়ে অর্থাৎ বৃষ্টির এই মওসুমে আর কাজ করা যাবে না মনে করছেন স্থানীয়রা। বৃষ্টি শুরু হলে খননকৃত এসব জলাশয় পানিতে ভরে যাবে। সরকারের বরাদ্দকৃত টাকাও জলে নীচে যাবে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন।
জামালগঞ্জ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি নদী, ডোবা ও বিল খননের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মাঝে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ছয়হারা নদী খননের জন্য ১৯ লাখ ৬ হাজার, একই ইউনিয়নের নলচুল্লী বিল থেকে চানপুরের খাল পর্যন্ত ১৭ লাখ ৯ হাজার ৯০, আবু মুন্সীর ডোবায় ৬ লাখ ১০ হাজার ও মহিষাকুড়ি খালে ১৫ লাখ, বেহেলী ইউনিয়নের বাড়ির লামা বিল থেকে বৌলাই নদী পর্যন্ত ১৯ লাখ ৬৫ হাজার এবং ভীমখালী ইউনিয়নের দিরাই চাতল লম্বা বিলে ১৭ লাখ ৩ হাজার ৩৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দিরাই চাতল বিল সংলগ্ন রসুলপুর গ্রামের মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘লালপুরের এইদিকে কিছু মাটি কাটা হইছিল এখন বন্ধ আছে। বৃষ্টি শুরু হইলে আর কাজ করা যাইত না।’ এ ব্যাপারে দিরাই চাতল বিল খনন কাজের দলনেতা মো. আলী হোসেনের মতামত জানতে তার সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।
এদিকে, ছয়হারা নদী খনন কাজের দলনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রীকান্ত তালুকদার বলেন, আমাদের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে এবং এ কাজ দেখে সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রানী বিশ্বাস, জামালগঞ্জের ইউএনও মহোদয় ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সবাই কাজ দেখে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বেহেলীর বাড়ির লামা বিলের দলনেতা মো. রইছ উদ্দিন জানিয়েছেন, তাদের কাজ ১০০ পারসেন্ট শেষ হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ারসহ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খননের কাজ দেখে গেছেন এবং কাজের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ বিল খননের আগে ভরাট থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই কৃষকের জমি তলিয়ে যেত। খনন করায় একদিকে মাছের বংশ বৃদ্ধি পাবে আরেকদিকে কৃষকরাও উপকৃত হবেন।
এ ব্যাপারে বেহেলী মশালঘাট গ্রামের কৃষক জয়ন্ত তালুকদার বলেন, লামা বিল খনন কাজ খুব ভালো হয়েছে। সরকার যে উদ্দেশ্যে এটি খননের উদ্যোগ নিয়েছে সেটি সফল হবে। এই খননের ফলে মাছের বংশবৃদ্ধির পাশাপাশি এখানকার কৃষকরাও লাভবান হবেন। কারণ আগে বৃষ্টি হলেই আমাদের জমিজমা ডুবরায় তলিয়ে যেত। এখন বৃষ্টির পানি খননকৃত বিলে গিয়ে পড়বে। যে কারণে জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে না।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, উপজেলা ৬টি বিল খনন কাজের মধ্যে ছয়হারা নদী ও বেহেলী লামার বিলের কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। এর মধ্যে দিরাই চাতল বিলের কাজে কোন অগ্রগতি নেই। বাকি ৩টা অর্থাৎ মহিষাকুড়ির খাল, আবু মুন্সীর ডুবা ও নলচুন্নীর বিলের খনন কাজ মোটামোটি ভালো। তবে এ জন্য খাল, বিল, ডোবা সংরক্ষণ কমিটিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। না হলে আগামীর দিনগুলোতে এ জলাশয় রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনন্দা মোদক জানিয়েছেন, হ্যাঁ, বাড়ির লামা বিল ও ছয়হারা নদীর কাজ শেষ। দিরাই চাতল বিলের কাজ আপাতত বন্ধ আছে। এর জন্য এখন যারা নতুন ইজারা পেয়েছে (জামালগঞ্জ সদরের একটি সমিতি) তারা আগামী শনিবার থেকে কাজ শুরু করবে। প্রথম কিস্তির কাজ বাদে বাকি কাজ তারা করবে। এছাড়া মহিষাকুড়ির খাল, আবু মুন্সীর ডুবা ও নলচুন্নীর বিলে যতটুকু মাটি কাটার কথা ততটুকু হয়েছে। এখন বাকি যে কাজগুলো আছে সেগুলো দ্রুতই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, মৎস্য অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।