জেঁকে বসেছে শীত, স্থবির জনজীবন

দ.সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত। শীতের এমন তীব্রতায় বিপর্যস্ত হচ্ছে জনসাধারণের জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশায় রীতিমত বেসামাল অবস্থায় পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও কৃষক শ্রেণি পেশার মানুষজন। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন পরিবহন সেক্টরের শ্রমিকেরা। ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচলে প্রচন্ড রকমের বেগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাড়কে যানবাহনের পরিমান তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এবং ঘন কুয়াশায় সড়ক ঢাকা থাকায় দিন এবং রাতে চালকদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।
এ উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে শীতের দাপট বেড়েছে এ উপজেলায়। কুয়াশার সাথে সাথে কখনো মৃদু আবার কখনো জোরেশোরে বইছে দখিনা হিমশীতল বাতাস। এতে স্থবিরতা এসেছে কর্ম জীবনে। যানবাহন সেক্টরে বেশি সমস্যায় আছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকেরা। তীব্র ঠান্ডায় খোলামেলা গাড়িতে চড়তে চান না কেউই। একই অবস্থা ইঞ্জিন চালিত রিকশায়ও। প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহের কারণে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না অধিকাংশ জেলে।
এদিকে উপজেলার প্রতিটি হাওরে পুরোদমে চলছে বোরো জমিতে ধান রোপনের কাজ। ঠান্ডার কারণে পিছিয়ে পড়ছে ধান রোপনের কর্মযজ্ঞ। মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহ চলছে। গ্রামীণ একটা প্রবাদ আছে, ‘মাঘে-মেঘে দেখা মিললে শীত বেশি হয়’। ধারণা করা হচ্ছে এই মাসেই শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।
রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় অনেক কুয়াশা পড়তে দেখা গেছে। সকাল পেরিয়ে দুপুর ১২টা কিংবা ১ টায়ও দেখা মেলেনি সূর্যের দেখা। সন্ধ্যার পরে তুষার পড়ার মতো কুয়াশা পড়েছে গত চারদিন। এমন ঠান্ডা পরিস্থিতিতে বাজারের কিংবা উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টের দোকানগুলো সন্ধ্যা নামার আগেই বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন দোকানীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ছয়হারা মৌগাঁও পয়েন্ট, ভমবমি বাজার, আক্তাপাড়া মিনাবাজার, চিকারকান্দি বাজার, বীরগাঁও বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার, নোয়াখালী, গনিগঞ্জ ও পাথারিয়া বাজার, জীবদারা বাজার এবং পাগলা বাজারের অধিকাংশ দোকানপাটই কাস্টমার না থাকায় দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কৃষক আলা উদ্দিন বলেন, আমাদের তো প্রতিদিনই কাজে আসতে হয়। যখন ঘর থেকে বের হই তখন হাত পাতলে নিজের হাতই দেখা যায় না। তবু আমাদের কাজে আসতে হয়।
চায়ের দোকানদান জয়নুল ইসলাম জানান, প্রচন্ড শীত পড়েছে। সাথে ঘন কুয়াশাও। সন্ধ্যার পরে মানুষ বাজারে থাকতেই চান না, তাই আমাদের ব্যবসায় কিছুটা মন্দা ভাব যাচ্ছে।
ট্রাক চালক তারেক মিয়া বলেন, আমরা ভারী ট্রাক চালাই। রাতেই আমাদের টিভ থাকে বেশি। প্রচুর কুয়াশা থাকে রাস্তায়। কিন্তু কি আর করার। গাড়ি চালিয়ে পেট আর সংসার তো চালাতে হবে।
এদিকে শীতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগণ ব্যক্তিগতভাবে অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের যত শীতবস্ত্র আসে বা ছিলো আমরা সবটাই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জনগণের মাঝে বিতরণ করাই। আমরা আরও কিছু বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা করছি। যদি আসে আমরা তা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করবো।