জেলায় শনাক্তের হার ৪২.৭৬ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার
নমুনা পরীক্ষা বাড়লেই জেলায় বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হারের উর্ধ্বগতি ভয় জাগাচ্ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৪২.৭৬ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত কোভিড ১৯ রিপোর্ট বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ১৭১৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনে করোনায় শনাক্ত হয়েছেন মোট ৫০৫ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৯.৩৯ শতাংশ। একই সময়ে আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ১১৬ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন।
গত ১ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ১২.৬৪ শতাংশ, ২ জুলাই ১৫.৬২ শতাংশ, ৩ জুলাই ২৭.৩৮ শতাংশ, ৪ জুলাই ৪১.৪৬ শতাংশ, ৫ জুলাই ২৪.৪১ শতাংশ, ৬ জুলাই ৩৪. ১৪ শতাংশ, ৭ জুলাই ২১.৪২ শতাংশ, ৮ জুলাই ২০.৭৭ শতাংশ, ৯ জুলাই ২৯.১৬ শতাংশ, ১০ জুলাই ৩৭.১৪ শতাংশ, ১১ জুলাই ৩৩.৭১ শতাংশ, ১২ জুলাই ২৬.০৩ শতাংশ, ১৩ জুলাই ৩৪.১১ শতাংশ, ১৪ জুলাই ২৯.৩৫ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত কোভিড ১৯ রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ১৫২ জনের নমুনা পরীক্ষায় জেলায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হন ৬৫ জন। জেলার ৭ উপজেলায় এই ৬৫ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন।
রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলায়। এরমধ্যে জগন্নাথপুর পৌরসভায় ১২ জন, পাটলী ইউনিয়নে ৫ জন, সৈয়দপুর ইউনিয়নে ২ জন, মিরপুর ইউনিয়নে ২ জন, কলকলিয়া ইউনিয়নে ১ জন, হলদীপুর ইউনিয়নে ৩ জন, দিরাই ১ জন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন মোট ৩৪০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৭১ জন। এছাড়াও হোম আইসোলেশন আছেন ৬০জন, হাসপাতাল আইসোলেশনে আছেন ৭ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ জন।
এছাড়াও সদর উপজেলায় ২৪ জন, বিশ^ম্ভরপুরে ৩ জন, তাহিরপুরে ৬ জন, দিরাইয়ে ২ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১ জন এবং শাল্লা উপজেলায় ৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ১ জন।
বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ৫২০ জন। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ১৭৯ জন আইসোলেসনে আছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। এছাড়াও ছাতক উপজেলার ৬১ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ২১ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৪১ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১৯ জন, দিরাই উপজেলার ৫১ জন, ধর্মপাশা উপজেলার ৫২ জন, দোয়ারাবাজায় উপজেলায় ১১ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৬৭ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৯ জন এবং শাল্লা উপজেলায় ৯ জন আইসোলেসনে রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলায় গত বছরের ১২ এপ্রিল প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হন। এরপর থেকে জেলায় এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩,৪৯৬ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ২৯৩৬ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৪০ জন।
সদর উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৪৩১ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২৩৯ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। দোয়ারাবাজার উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৪৯ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৩৭ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ জন। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১২১ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৯ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ জন। তাহিরপুর উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১১৩ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭০ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ জন। জামালগঞ্জ উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১২৬ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০৬ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ জন। দিরাই উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৭৪ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২০ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ জন। ধর্মপাশা উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১০৮ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন। ছাতক উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৭২২ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৪৯ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২ জন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৫৬ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৪৬ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ জন।
শাল্লা উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৫৬ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৭ জন।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস শনাক্তে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৫৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২০ হাজার ৮৪৯ জনের। এরমধ্যে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১১ জন। এদিকে এন্টিজেন নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২,৮২৭ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪৮৫ জন।