জেলা পরিষদ ভোটের আগে-পরে ৪৮ ঘণ্টা থাকবে সিসি ক্যামেরা

সু.খবর ডেস্ক
জেলা পরিষদ নির্বাচনেও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে পুরো নির্বাচনের চিত্র এক হাজার ৩৯৬টি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইসির ক্রয় ও মুদ্রণ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ এনাম উদ্দীন জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে টেলিফোন শিল্প সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়েছে। তাদের সহযোগিতায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা সব ভোটকেন্দ্রে ও ভোটকক্ষে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করবেন।
জেলা প্রশাসকদের পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে- আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে এবং কেন্দ্রের সম্মুখে নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে সিসিটিভির সাহায্যে রেকর্ডিং এর জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য টেলিফোন শিল্প সংস্থা লিমিটেড, টঙ্গী, গাজীপুরের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ও কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এমতাবস্থায়, রেকর্ডিংয়ের তারিখ ও সময়-এর। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বর্ণিত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনী সহযোগিতা/নির্দেশনা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকেও। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির সচিবের কক্ষেও পর্যবেক্ষণ মনিটরিং করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সারাদেশের ৬১টি জেলা পরিষদ (তিন পার্বত্য জেলা ব্যতিত) নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৩ হাজার ১৫৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ১৪ হাজার ৯২৩ জন ও পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ২৩৬ জন।
নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদ রয়েছে ৪৬৩টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদ রয়েছে ১৭২টি। আর চেয়ারম্যান পদ রয়েছে ৬১টি। এসব নির্বাচনে ৪৭৭টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৫টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখা জানিয়েছে, চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে ৯৬ জন, সাধারণ সদস্য পদে এক হাজার ৫১৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে রয়েছেন ৬২২ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৬৬ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে নোয়াখালী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন আদালতের নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবরে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরা দ্বারা পর্যবেক্ষণ করে ইসি। গাইবান্ধার ভোটে ব্যাপক অনিয়ম স্বচক্ষে দেখতে পাওয়ায় প্রথমে ৫১ ভোটকেন্দ্র পরে পুরো নির্বাচন বন্ধ করে দেয় ইসি।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম