জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
নতুন নির্মাণ করা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে যাওয়ার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে গাড়ি রাখার গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগ করেছে আইনজীবী সমিতি। নতুন ভবনে যাওয়ার সড়কে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ এই গ্যারেজ নির্মাণ করেছেন বলে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করা হয়েছে। নতুন ভবনে যাওয়ার রাস্তাটি জেলা প্রশাসকের ভবনের সামনের রাস্তা দিয়েই বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি ভবনেই শুরু থেকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন সময় আইনজীবীরা আদালতের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণের দাবি জানান। এরপর ২০১৬ সালে ১০ তলা এই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশেই নির্মাণ হচ্ছে। ভবনে যাওয়ার রাস্তায় নকশায় উল্লেখ আছে। কিন্তু গত বছর নকশায় থাকা রাস্তার উপর একটি সরকারি গোদাম নির্মাণের কাজ শুরু হয়। আইনজীবীরা বাধা দেন। এরপর আদালতে এ নিয়ে একটি মামলা হলে আদালত সেখানে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। এখন আবার সেখানে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার জেলা আইনজীবী সমিতিতে জরুরি সাধারণ সভা হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের দাবি করার সিন্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন চিঠিতে আইনজীবী সমিতিকে নিয়ে কটাক্য করায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, বিষয়টি প্রধান বিচারপতি, পরিকল্পনামন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, জনপ্রশাসনমন্ত্রীসহ সুনামগঞ্জের সব এমপিদের অবহিত করার সিন্ধান্ত হয়।
সংবাদ সম্মেলনের জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আপ্তাব উদ্দিন বলেন, এই আদালত ভবন যেমন আইনজীবীরা ব্যবহার করবে, তেমনি জেলার বিচারপ্রার্থী জনগণও ব্যবহার করবে। আমরা বুঝতে পারছি না ডিসি সাহেব কেন রাস্তায় বাধা দিচ্ছেন। এটাতো ভবন নির্মাণের সময়ই নকশা করা। সংবাদ সম্মেলনের আরও বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সমিতির সাবেক সভাপতি বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, রবিউল লেইস রোকেস, সৈয়দ শামসুল ইসলাম, মল্লিক মইন উদ্দিন মো. সোহেল।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ এই বিষয়ে বলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এ নিয়ে আমি বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে একাধিবার কথা বলেছি। কিন্তু সমাধান হয়নি। আমি কখনোই কাউকে অপমান করি নি। করার ইচ্ছাও আমার নেই। ভবনে যাওয়ার রাস্তার নকশায় পরিবর্তন করে করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা এসবের কিছুই জানি না। আমি আমার দায়িত্ব থেকে সার্বিক বিষয় মন্ত্রী পরিষদ বিভাগকে অবহিত করেছি। এখন সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাই হবে। এখানে কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।