জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জনবল সংকটে গরুর খামারীরা পাচ্ছেন না সহায়তা

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জে প্রাণি সম্পদ দপ্তরে লোকবল সংকট থাকায় জেলার গ্রামাঞ্চলের সাধারণ কৃষিজীবি ছাড়াও প্রায় সাড়ে ৫শত গরুর খামারী বিপাকে পড়েছেন। এসব খামারে গরুর নানা রোগ ব্যাধি প্রতিরোধে প্রাণিসম্পদ দপ্তর যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এই কারণে কোনো কোনো খামারে এফএমডি রোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
একাধিক খামারী জানান, গাভীর গর্ভ ধারণের সময় সরেজমিন সহকারী (কৃত্রিম প্রজনন) পাওয়া যায় না। তাঁদেরকে খোঁজ করে আনতে বিলম্ব হলে কনসেপ্ট মিস হয়ে যায়। এতে আমাদের ফার্মের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
সুনামগঞ্জ শহরের ধোপাখালি, আলীপাড়া, সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামের পাশে, পাঠানবাড়ি, কালীপুর, ষোলঘর, শান্তিবাগ ও হাছননগরে গরুর খামার রয়েছে। এসব খামারে দেশী ও বিদেশী নানা জাতের গরু রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়, তাহিরপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই, শাল্লা, ছাতক, দোয়ারা উপজেলার গ্রামাঞ্চলের কৃষিজীবিরা বছরের পর বছর গরু পালন করে আসছেন। এসব গরুর নানা রোগব্যাধি প্রতিরোধে যথাসময়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোক পাওয়া যায় না।
শহরের ধোপাখালি এলাকায় খামারের মালিক মো. মমিনুল হক বলেন,‘আমার খামারে গাভীর গর্ভ ধারণের জন্য সময়মত সরেজমিন সহকারী (কৃত্রিম প্রজনন) পাওয়া যায় না। এই কারণে অনেক সময় কনসেপ্ট মিস হয়ে যায়। আমার খামারে এফএমডি রোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।’
ষোলঘর এলাকার খামারী সুজাতা রানী বলেন,‘প্রাণী সম্পদে বছরের পর বছর লোকবল সংকট থাকে। এই কারণে সময়মত গরুর চিকিৎসা পাওয়া যায় না।’
সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামের পাশে সোহাগ দুগ্ধ খামারের মালিক দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন,‘লোকবল সংকট থাকায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। দেশ ও জাতির উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোকবল সংকট নিরসন জরুরি প্রয়োজন।’ শান্তিবাগ এলাকার খামারী মো. সোহেল মিয়াও একই মন্তব্য করেন।
তাহিরপুর উপজেলার ধুতমা গ্রামের খামারী এনামুল হক জানান, আমি ২ বছর যাবত খামার করছি। গরু নানা রোগে আক্রান্ত হলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সরেজমিন সহকারী (কৃত্রিম প্রজনন) পাওয়া যায় না।
সুনামগঞ্জ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশনের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর জানান, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোকবল সংকট দূর করতে হবে ।
সুনামগঞ্জ জেলা ডেইরি ফার্মারস এসোসিশেনর সভাপতি মো. নুরুল আলম জানান, আমাদের জেলায় প্রায় ৩ বছর যাবত খামার গড়ে তোলার আগ্রহ বেড়েছে খামারীদের। প্রায় সময় গরুর খামারে নানা রোগব্যাধি দেখা দেয়। এই জন্য প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দায়িত্বশীলদের যোগাযোগ ও নজরদারি বাড়াতে হবে। তখন আমরা নানা সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব। খামারের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়বে এবং জেলায় দুধ উৎপাদনও বাড়বে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানায়, ১১ উপজেলার মধ্যে লাইভস্টক অফিসার (ইউএলও) আছেন ৪ জন, ৭ জনের পদ খালি। ভ্যাটেরেনারি সার্জন নেই সদর, ছাতক, দোয়ারা, ধর্মপাশা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায়। সরেজমিন সহকারী (কৃত্রিম প্রজনন) সদর, দোয়ারা, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা, তাহিরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় নেই। ভিএফএ পদ ১১ উপজেলায় ৩২টি। অধিকাংশ পদ শূন্য। অফিস সহকারী শুধু তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় আছেন। ৯ উপজেলায় এই পদ শূন্য।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. আব্দুল আউয়াল বলেন,‘আমাদের অফিসে লোকবল সংকট আছে। এই কারণে সঠিকভাবে খামারীদের গরু দেখাশোনা করা সম্ভব হয় না।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন,‘সারা জেলায় ৫৩৬টি গরুর খামার রয়েছে। গরুর খামার ছাড়াও গরুর রোগব্যাধি দেখাশোনায় নিয়মিত প্রতি ইউনিয়নে ১ জন করে কৃত্রিম প্রজনন কর্মীর পদ আছে। তবে সারা জেলায় প্রাণিসম্পদের ডাক্তার, সার্জন, অফিস সহকারীসহ নানা পদে লোক সংকট আছে। এই সংকট নিরসনের জন্য আমরা একাধিকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। তবে এবার হয়তো কিছু লোক সুনামগঞ্জে দেয়া হবে।’